করোনা ভাইরাস নারী না পুরুষ?

বিশ্বজুড়ে কারো মাথায় এমন অদ্ভুত প্রশ্ন না এলেও ফরাসিদের কাছে কিন্তু প্রাণঘাতী এই রোগের নামটি মাসের পর মাস এটা এক হেঁয়ালি হয়ে আছে। এই নামটা কি স্ত্রী বাচক নাকি পুরুষবাচক?



ঐতিহ্যগত ফরাসি ব্যাকরণে ‘লে’ দিয়ে পুরুষ এবং ‘লা’ দিয়ে নারী বোঝানো হয়। কিন্তু সেটা কি রোগের ক্ষেত্রে চলবে? মানে রোগ কি পুরুষ নাকি স্ত্রীবাচক হবে? মানে রোগের লিঙ্গটা আসলে কী?

সংরক্ষণবাদী বা রক্ষণশীলরা বলে দিয়েছেন, করোনাকে যতই পুরুষোচিতভাবে সম্বোধন কিংবা পরিচিত করা হোক, এটা শেষ পর্যন্ত স্ত্রীবাচক নামই বটে। রক্ষণশীলদের মধ্যে আছে ফারসি ভাষা ইন্সিটিটিউট। এরা নিজেদের ভাষাকে ইংরেজি ভাষার দাপটের হাত থেকে বাঁচাতে সারাক্ষণ তটস্থ। এছাড়াও ফরাসি কৌলিন্য কিংবা সতীত্ব রক্ষায় তাদের কসরতের শেষ নেই। এ ক্ষেত্রে তারা লিঙ্গ অনুসারে বিশেষ্য পদ বাছা্ই করে, যা রোমান ভাষাগুলোর একটা সাধারণ ব্যাকরণগত সাদৃশ্য।


এদের কাজের একটা নমুনা দেয়া যায়। যেমন, ফরাসিরা সাধারণত বাংলায় ‘সপ্তাহান্ত’র অনুরূপে নিজেদের ভাষায় ‘লে উইকএন্ড" শব্দটি ব্যবহার করেন, কিন্তু একাডেমি জনসাধারণকে ‘লা ফিন দে সেমাইন’, আক্ষরিক অর্থে ‘সপ্তাহের শেষ’ বলতে উৎসাহিত করে। ইংরেজি ভাষা থেকে দূরে রাখার প্রয়াসে এটি করা হয়। ৪০ জন নির্বাচিত সংসদ সদস্য মিলে গঠিত এই একাডেমি ফ্রান্সের সাধারণ জনগণের ভাষায় কথা বলতে চায় না। তবে চলতি মাসে তাদের পা মাটিতে নেমেছে।

একটি নারীবাদী নিবন্ধে লেখা হয়েছে, লা কোভিড-১৯। কিন্তু অমনি চারদিকে হৈ হৈ করে প্রতিবাদ, কোভিড ‘লা’ নয়, এর আগে ‘লে’ বলতে হবে। আপনি হয়তো ভাবছেন, রোগের নারীত্ব-পুরুষত্ব নিয়ে দুই পক্ষই এত নিশ্চিত হলো কী করে?


সোজা হিসেব। ফরাসি ভাষায় বিশেষ্য শব্দের শেষে ‘ই’ বা ‘আ’ থাকলেই সেটাকে স্ত্রী-বাচক শব্দ হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু কয়েকটি শব্দের আদ্যাক্ষর দ্বারা গঠিত শব্দের প্রথম বর্ণগুলো নিয়ে গঠিত যে শব্দ, সে শব্দটির লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয় তার শেষ বর্ণের উচ্চারণ দিয়ে যেমন ‘সিআই’কে তারা নারীবাচক শব্দ বিবেচনা করে। এর কারণ সিআইএ অর্থাৎ ‘কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’র ‘এজেন্সি’ শব্দটার সঙ্গে ‘ই’ থাকার কারণে পুরো শব্দটাকেই নারীবাচক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই এটা ‘লা সিআইএ’, ‘লে সিআইএ’ নয়। আবার এফবিআই (ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন) কিন্তু ‘লে’। কারণ এর পেছনে ‘ব্যুরো’ শব্দ রয়েছে। ‘ব্যুরো’ পুরুষবাচক।


ফরাসি ভাষয় ‘লে’ এবং ‘লা’ হলো ইংরেজি দ্য-এর মতো আর্টিকেল। তবে ইংরেজি আর্টিকেল ‘দ্য’ লিঙ্গনিরপেক্ষ হলেও ফরাসি আর্টিকেলটি ‘লে’ আর ‘লা’ নামে রীতিমতো ছেলেমেয়েতে বিভক্ত।


এখন কোভিড-১৯ এর লিঙ্গ কীভাবে নির্ধারণ করা হলো?

কোভিড শব্দটি ব্যবহৃত হচ্ছে করোনাভাইরাসজনিত অসুখের নামকরণে। ফ্রেঞ্চ ভাষায়, একাডেমির নিয়মানুসারে, এর নাম ‘মালাদি প্রোভোকি পার লে করোনা ভাইরাস’। ইংরেজি ভাষায় ‘দ্য ডিজিজ কজড বাই দ্য করোনাভাইরাস’। এখন উচ্চারণ অনুসারে ‘মালাদি’ নারীবাচক শব্দ, সুতরাং এর আগে মেয়েবাচক আর্টিকেল ‘লা’ই বসার কথা। তাই একাডেমির নিয়মানুসারে, কোভিড-১৯ এর আগে ‘লা’ই বসবে।

‘লে’ নাকি ‘লা’ সেটা নিয়ে ফরাসিরা ঝগড়া করে মরুক, পৃথিবীর অন্য ভাষার মানুষদের তা নিয়ে মাথাব্যথা নেই। এটা হলো ফরাসিদের সমস্যা। তবে ফরাসিসহ সব ভাষার মানুষেরই কমন সমস্যা এখন কোভিড ১৯। এটাকে দূর করতে পারলেই পৃথিবীর মানুষ তাদের অনেক সমস্যা থেকে পার পেয়ে যাবে।