‘লিঙ্গ বুঝতে বুকে চাপ দিলো’, জনসম্মুখে ঘটা এক বিব্রতকর ঘটনা

পানামার লকডাউনের ধারাণাটাই অন্যরকম! অন্যান্য দেশের লকডাউন মানেই রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেয়া, কেউ বাইরে বেরোতে পারবে না। কর্তৃপক্ষ যা বলবে, তা শুনতে হবে। কিন্তু পানামায় তিনদিন নারী ও চারদিন পুরুষরা স্বাভাবিকভাবেই বেরোতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা কোন দিন বের হবেন?

পানামার এ আইনে সমস্যায় পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এর মধ্যে মনিকা (৩৮) অন্যতম। তিনি পেশায় একজন যৌনকর্মী, কিন্তু তার প্রিয় কাজ রান্না করা। লকডাউনে কাজকর্ম বন্ধ, তাই করোনার গৃহবন্দী দিনগুলোতে তিনি মজার সব পদ বানিয়ে চেখে দেখছেন।



গত ১ এপ্রিল মনিকার সঙ্গে ঘটলো এক বিব্রতকর ঘটনা। সেদিন ছিল নারীদের বাইরে যাওয়ার দিন। দোকানে ঢুকতেই একটা ধাক্কা খেলেন মনিকা। তার কাছে কেউ বিক্রি করতে রাজি হচ্ছিলো না। পরিচিত চীনা দোকানদার বললেন, ‍আজ নারীদের দিন। তুমি চলে যাও। পুলিশদের নিষেধাজ্ঞা আছে তোমাদের ব্যাপারে, তাই কিছু বিক্রি করতে পারবো না।

স্থানীয় পুলিশ সদস্যরাও মনিকার পরিচিত। পানামায় দেহব্যবসা বৈধ তাই আইনের বাধা নেই। কিন্তু মানুষের মনের ধারণা তো তাতে বদলায়নি। মনিকা বলেন, পুলিশ তাকে দেখলেই অপমান-বিদ্রূপ করে, নানা রকম ঘৃণাসূচক শব্দ ব্যবহার করে।



সেদিন মনিকা মুরগি না নিয়েই বাড়িতে ফিরলেন। কিন্তু বাড়ি ফিরে আসার পর মনিকার ফোনে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ পাঠালো সেই চীনা দোকানদার। সে লিখেছে, তোমাকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে বলে খারাপ লাগছে। তোমাকে আর কাউকে পাঠাতে হবে না, আমি নিজেই তোমার বাড়িতে চিকেন পৌঁছে দেবো।

মনিকার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। কিন্তু কারো দয়ার ওপর বেঁচে থাকা তার একদমই পছন্দ না। নতুন সিদ্ধান্ত নিলেন, পুরুষদের দিনই বের হবেন তিনি। মনিকা একটা সুপারমার্কেটে গেলেন - কয়েক সপ্তাহের কেনাকাটা একবারে সেরে নিতে। লাইনে দাঁড়ানো লোকেরা মনিকার দিকে বাঁকা চোখে তাকাতে লাগলো।

মার্কেটের লাইনে দুই ঘণ্টা সময় যখন অতিবাহিত হলো, তখন পুলিশ সদস্যরা তার সামনে এসে দাঁড়ালেন। তারা লাইনের মধ্যে থেকে মনিকাকে বের করে আনলেন। এরপর তার দেহের নানা অংশে হাত দিতে শুরু করলো। মনিকা ওই সময়ের কথা স্মৃতিচারণ করে বললেন, একজন আমার বুকে চাপ দিলো, তারপর হাসতে হাসতে বললো‌ ‘তুমি তো মেয়ে নও’।

আশপাশের অন্য লোকেরা ব্যাপারটা দেখেও না দেখার ভান করলো; কেউ মনিকাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না। মনিকা বলছেন, তার জীবনে কোনো দিন নিজেকে এত একা মনে হয়নি।

দেশটিতে মনিকার মতো অনেকের সঙ্গেই এমন আরো অনেক ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। মানবাধিকার সংস্থাটি এ ব্যাপারে পানামার কর্তৃপক্ষের কাছে এক চিঠি দেয়, এবং তাতে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের লকডাউনের সময় পুলিশের হয়রানির শিকার হবার কথা জানানো হয়। এ চিঠির পর জননিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের বিরুদ্ধে কোনো বৈষম্য না করার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।