মেয়ের পর মা-ও চলে গেলেন



চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে জামাতার ছুরিকাঘাতে মেয়ের মৃত্যুর পর শাশুড়িও মারা গেছেন। শুক্রবার সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা যান শাশুড়ি পারভীন বেগম। এর আগে গত বুধবার রাতে একই ঘটনায় তার মেয়ে তানজিলা আক্তার রিতু মারা যান।

এই ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত আল মামুন মোহনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ করেছে। এর মধ্যে রিতুর চাচা লিয়াকত আলী খান তিনজনকে আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তবে মামলায় এজাহারভুক্ত অন্য আসামি মোহনের ভাই ও বোনকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ফরিদগঞ্জ থানার ওসি আবদুর রকিব জানান, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, বেশ গুরুত্ব দিয়ে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে। তিনি আশা করছেন অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে মামলার ক্লু উদ্‌ঘাটন করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

গত বুধবার রাতে ফরিদগঞ্জের গৃদকালিন্দিয়া এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে বিদেশফেরত স্বামী আল মামুন মোহন তার কলেজ পড়ুয়া স্ত্রী তানজিলা আক্তার রিতুকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে মা পাররভীন আক্তার (৪০) ও ছোটভাই প্রান্ত (১০) এগিয়ে গেলে মোহন তাদেরকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে। এই ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে রিতু মারা যান। অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে শুক্রবার সকালে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে শাশুড়ি পারভীন আক্তার মারা যান।

তিন বছর আগে পাশের লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরের আল মামুন মোহনের সঙ্গে তানজিলা আক্তার রিতুর বিয়ে হয়। গত কয়েকমাস আগে মোহন বিদেশ থেকে ফিরে নানা অভিযোগ তুলে স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। গত বুধবার রাতে শ্বশুর বাড়িতে কথাকাটাকাটির জের ধরে ধারালো ছোরা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে স্ত্রীকে। এ সময় মেয়েকে রক্ষায় এগিয়ে আসা মা ও ছোটভাই গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের হাতে আটক হয় নিহতের স্বামী মোহন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি বছর গৃদকালিন্দিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল নিহত রিতুর। তার বাবা সেলিম খান সৌদি আরবে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন হাসপাতালে। দুই ভাইবোনের মধ্যে তানজিলা ছিলেন বড়।