মাঝরাতে পাগলির কোলজুড়ে এলো ফুটফুটে মেয়ে!

হঠাৎ প্রসব ব্যথায় কাতর হয়ে পড়েন মানসিক মারসাম্যহীন এই নারী। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানে মাঝরাতে একটি ফুটফুটে মেয়ের জন্ম দেন তিনি। তবে মেয়েটির বাবা কে? এ প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারেননি মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী।



শনিবার রাতে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এ ঘটনা  ঘটে। ওই নারী নিজের নাম বলছেন চায়না আক্তার। শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে জন্ম নেয়া মেয়েটির নাম রাখা হয়েছে সিনথিয়া।

নড়িয়ার ইউএনও জয়ন্তী রূপা রায় জানান, শনিবার রাতে নড়িয়ার ভোজেশ্বর বাজার সংলগ্ন সড়কে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী প্রসব ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। মোবাইলে খবর পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ভোজেশ্বর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীকে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাতৃসদন ক্লিনিকে ভর্তি করান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুর সদরের ইউএনও মো. মাহাবুর রহমান শেখ জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটে সদর হাসপাতালে ফুটফুটে একটি মেয়ের জন্ম দেন ওই নারী। মা ও মেয়ে দুজনই সুস্থ আছেন।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রবেশন অফিসার তাপস বিশ্বাস বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারীর ওষুধ, পরীক্ষাসহ যাবতীয় খরচ আমরা বহন করবো। গাজীপুরের কাশিমপুর সরকারি আশ্রয় কেন্দ্রের পরিচালকের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে মা ও মেয়েকে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।


শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুনীর আহমেদ খান বলেন, মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ও তার মেয়ে সদর হাসপাতালে আমাদের তত্ত্বাবধানে আছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। দুজনই সুস্থ আছেন। ওই নারী তার মেয়ের নাম রেখেছেন সিনথিয়া। মেয়ের বাবার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি কিছুই বলছেন না।