এক হাজার টাকার জন্য অন্তঃসত্ত্বা পোশাক শ্রমিককে বের করে দিল বাড়িওয়ালা

আশুলিয়ায় এক হাজার টাকা বাসা ভাড়া বকেয়া রাখায় এক গর্ভবতী শ্রমিককে স্বামীসহ রাতের আঁধারে বের করে দিয়ে ঘরে তালা লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে।



এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই ভাড়াটিয়া প্রতিবেশীদের কাছে সহায়তা চেয়ে না পেয়ে পরে পুলিশের কাছে যান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে ওই বাড়ির মালিকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে অভিযুক্ত বাড়িওয়ালা নিজের দোষ স্বীকার করেন এবং ভুক্তভোগী ওই ভাড়াটিয়ার তিন মাসের ভাড়া মওকুফ করে দেন।

শনিবার রাতে আশুলিয়ার দোসাইদ এলাকার সবুজ মিয়ার ভাড়া বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া নারী শ্রমিক নিশা আক্তার সাত মাসের অন্তঃসত্বা এবং তিনি স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্বামী আবদুল হামিদ পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অন্তঃসত্বা নারী শ্রমিক নিশা আক্তার বলেন, তিনি ৮ হাজার টাকা বেতনে স্থানীয় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করলেও করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এ মাসে অর্ধেক টাকা বেতন পেয়েছেন। এ ছাড়া চারদিকে লকডাউনের কারনে তার স্বামীর কাজ না থাকায় তেমন কোনো উপার্জন হয়নি। তাই বাসাভাড়ার ২ হাজার টাকার মধ্যে ১ হাজার টাকা দিয়ে বাকিটা পরের মাসে দিতে চান বাড়িওয়ালা সবুজকে। কিন্তু  বাড়ির মালিক সবুজ মিয়া বাকি টাকার জন্য শনিবার রাত ১০টার দিকে তাদের গালিগালাজ করে বাসা থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেন।


নিশা আক্তারের অভিযোগ, তাদের বের করে দেওয়ার পর তারা প্রতিবেশীদের সহায়তা চেয়েও পাননি। এ ছাড়া ভাড়া দিতে না পারায় আরেক ভাড়াটিয়া কেয়া আক্তারকেও বাসা থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন নিশা। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও বাড়িওয়ালার এমন অমানবিক আচরণে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

জানতে চাইলে বাড়ির মালিক সবুজ মিয়া বলেন, ভাড়া দিতে না পারায় তাঁদের বের করে দিয়েছি। এ রকম না করলে অন্য ভাড়াটিয়ারা সুযোগ পেয়ে যাবেন।’

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জাবেদ মাসুদ বলেন, ভাড়াটিয়াকে বের করে দেওয়ার খবর পেয়ে এসআই আজাহারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে রাত ১২ টার দিকে আজাহারুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির মালিক সবুজ মিয়ার সঙ্গে কথা বলে তাদের ঘরে তুলে দেন।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আজাহারুল ইসলাম বলেন, বাড়ির মালিক তার দোষ স্বীকার করেছেন। এ জন্য তিনি অনুতপ্ত। এ ছাড়া তিনি পোশাক শ্রমিক নিশা ও কেয়ার তিন মাসের ভাড়া মওকুফ করে দিয়েছেন।