‘ভিক্ষুকের তালিকা’য় আ.লীগ নেতার স্ত্রী-মেয়ে, কাউন্সিলর বরখাস্ত

ধনাঢ্য আওয়ামী লীগ নেতার স্ত্রী-মেয়েসহ স্বজনদের নাম ভিক্ষুক-দরিদ্রদের সরকারি সহায়তার তালিকায় থাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকবুল হোসাইনকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে।



সম্প্রতি ভিক্ষুক-দরিদ্রদের সরকারি সহায়তার তালিকায় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক এবং স্থানীয় ওএমএস ডিলার মো. শাহ আলমের স্ত্রী-সন্তানসহ ১৩ স্বজনের নাম পায় প্রশাসন। এ ঘটনায় আজ রোববার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কাউন্সিলর মাকবুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্তের এ আদেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে কারণ দর্শানোরও একটি নোটিশ দেওয়া হয়।

নোটিশে কেন চূড়ান্তভাবে তাকে অপসারণ করা হবে না, এর কারণ দর্শীয়ে আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে মাকবুল হোসাইনকে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের আদেশকৃত এ প্রজ্ঞাপনে মেইলের মাধ্যমে পেয়েছেন ব্রাহ্মণবড়িয়ার জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খান। আদেশ ও নোটিশ দুটোই পৌর কাউন্সিলর মো. মাকবুল হোসেইনের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি।

ভিক্ষুকসহ দরিদ্রদের সরকারি সহায়তার তালিকায় স্ত্রী-মেয়েসহ স্বজনদের নাম আসায় গত ১৩ মে আওয়ামী লীগ মো. শাহ আলমের সরকারি চাল বিতরণের ওএমএস-এর ডিলারশিপ বাতিল করা হয়। এ ঘটনায়ই বরখাস্ত হলেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর।


উপসচিব মোহাম্মদ ফারুক হোসেন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে- ‘করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে উদ্ধুত পরিস্থিতে কর্মহীন হয়ে পড়া দরিদ্র, নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিশেষ ওএমএসের কার্যক্রমের আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে মাসিক ২০ কেজি বা পাক্ষিক ১০ কেজি করে চাল বিতরণের জন্যে অনিয়ম করে একটি সচ্ছল পরিবারের সব সদস্য ও আত্মীয়-স্বজনসহ ১৫ জন ব্যক্তির নাম ওএমএস ভোক্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্তকরণের অভিযোগ প্রমানিত হওয়ায় এবং আপনার দ্বারা সংঘঠিত অপরাধমূলক কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থি বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন ২০০৯ এর ধারা ৩২ (১) (খ) ও (ঘ) অনুযায়ী স্বীয় পদ থেকে অপসারণের লক্ষ্যে আপনাকে একই আইনের ধারা ৩১(১) অনুযায়ী সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

একই সাথে, মাকবুল হোসাইনকে পৌরসভা আইনের ৩২ (২) বিধান অনুযায়ী কেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদ থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করা হবে না তা আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগে জবাব দেবার নির্দেশ দেওয়াও হয়েছে।