একাই ৮০ জনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন বাহাউদ্দিন

করোনা মহামারীতে সবাই যখন দিশেহারা-বিপর্যস্ত, আক্রান্ত স্বজন থেকেও নিরাপদ দূরত্বে থাকছেন, সেই মুহূর্তে এক অকুতোভয় পুলিশ সদস্য জীবনের মায়া তুচ্ছ করে সহকর্মীদের সেবা দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন করোনা আক্রান্ত পুলিশ সদস্যকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন ‘মানবিক’ পুলিশ মো. বাহাউদ্দিন।



ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম-উত্তর) বিভাগের এই মেডিক্যাল সহকারী রাত-দিন করোনা আক্রান্তদের হাসপাতালে আনা-নেওয়াসহ সার্বিক দেখভাল করে যাচ্ছেন হাসিমুখে। বেশি দুর্বল হয়ে পড়া পুলিশ সদস্যদের কাঁধে তুলে নামিয়েছেন বহুতল ভবন থেকে। এর পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে নিয়ে গেছেন হাসপাতালে।

বাহাউদ্দিন বলেন, প্রথম দিকে খুব ভয় পেতাম আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের কাছে যেতে। কিন্তু দেশের এই চরম সংকটে আর বসে থাকা সম্ভব হয়নি। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যখন ব্যাপকহারে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছিলেন, তখন তাদের কথা ভেবে মন থেকে সব ভয় দূর হয়ে গেল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, পিপিই ও মাস্ক পরিধান করে আক্রান্তদের সেবা করে যাচ্ছি। এভাবেই নিজের আত্মনিয়োগের কথা জানালেন ‘মানবিক’ এই পুলিশ সদস্য।

৮০ জন করোনা রোগীর সংস্পর্শে যাওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বস্তি ফুটে ওঠে ২০১৫ সালে কনস্টেবল পদে যোগ দেওয়া বাহাউদ্দিনের চোখে মুখে। জানালেন এখন পর্যন্ত অসুস্থ বোধ করছেন না কিংবা কোনো ধরনের করোনা উপসর্গ তার শরীরে দেখা দেয়নি। এর পরও অতিসম্প্রতি নমুনা পরীক্ষা করিয়েছেন। করোনা নেগেটিভ এসেছে।


বাহাউদ্দিন জানান, তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। বাবা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তিনি বলেন, মানবসেবা শ্রেষ্ঠতম কাজ। পুলিশ সদস্যদের সেবায় মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাব।

বাহাউদ্দিনের এমন মানবিকতার ভূয়সী প্রশংসা করে পিওএম (উত্তর) এর অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রহিমা আখতার লাকি বলেন, বাহাউদ্দিনের সাহসিকতা ও দায়িত্বশীলতার প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না। কম বয়সী একজন পুলিশ সদস্য হয়েও তিনি যে মাপের সাহসিকতা প্রদর্শন করে করোনা আক্রান্ত পুলিশের সেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন, তা বর্ণনাতীত।

রহিমা আখতার জানান, হোটেলে করোনা উপসর্গ নিয়ে যারা রয়েছেন সেসব পুলিশ সদস্যকেও হাসপাতালে আনা নেওয়া, ওষুধপথ্য দিয়ে সেবা করা, নিয়মিত খোঁজখবর রাখাসহ নীরবে, সযতেœ সার্বিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বাহাউদ্দিন।