ধেয়ে আসছে আরেক বিপদ

শক্তি বাড়াচ্ছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’। চার সমুদ্রবন্দরে দেখাতে বলা হয়েছে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত। গত বছরের নভেম্বরে আঘাত হানা বুলবুলের গতিপথ অনুসরণ করেই আগামী বুধবার বাংলাদেশের ওপর আছড়ে পড়তে পারে নতুন ঘূর্ণিঝড়টি। এদিকে দুর্যোগকালীন করোনা বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদেও জরুরি বৈঠক হয়। এতে উপকূলবর্তী ১৯ জেলার প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যায়। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের আগে সব ধরনের পাকা ফসল দ্রুত ঘরে তোলারও নির্দেশ দেওয়া হয়।

দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র রয়েছে। ভুক্তভোগীর তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা যথেষ্ট থাকলেও করোনার কারণে সামাজিক দূরত্ব রক্ষায় একসাথে বেশি লোক জড়ো করা যাবে না। তাই নিকটবর্তী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ছাত্রাবাস আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া পরিবার ভিত্তিক গুচ্ছ করে আলাদা আলাদাভাবে সবাইকে রাখারও পরিকল্পনা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোহসীন বলেন, ‘করোনার ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আমরা ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় প্রস্তুতি নিচ্ছি। এ পরিপ্রেক্ষিতে বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ত্রাণ হিসেবে শিশুখাদ্য দেওয়ার পাশাপাশি গবাদিপশু সুরক্ষায়ও এবার কাজ করা হবে।’


এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান আরও উত্তর-পশ্চিমে এগিয়ে আসায় বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোকে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে ৪ নম্বর স্থানীয় হুশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ধীরে ধীরে শক্তি সঞ্চয় করে এ ঘূর্ণিঝড় এগিয়ে যাচ্ছে ভারতের উত্তর উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে। বর্তমান প্রবণতা বজায় থাকলে এ ঝড়ের উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছতে দিন দুয়েক সময় লাগতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি আরও ঘনীভূত হয়ে অগ্রসর হবে উত্তর পশ্চিম দিকে। মঙ্গল কিংবা বুধবার ভারতের উড়িষ্যা বা পশ্চিমবঙ্গ এলাকা দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এর প্রভাব পড়বে বাংলাদেশেও।’

আবহাওয়া মডেলের পূর্বাভাস অনুসারে, ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রায় অর্ধেক অংশ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে ও বাকি অর্ধেক কলকাতার ওপর দিয়ে স্থল ভাগে প্রবেশ করবে। এটি ক্যাটাগরি ৩ মানের ঘূর্ণিঝড়। আর এ মানের ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের গতিবেগ থাকে ঘণ্টায় ১৭৮ থেকে ২০৮ কিলোমিটার। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পরে এত শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকূলে আঘাত হানেনি। এ ছাড়া ঘূর্ণিঝড়ের ফলে জলোচ্ছ্বাসেরও সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার আমাবস্যা। এর আগের দিন ঘূর্ণিঝড় প্রবেশ করার সম্ভাবনা থাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হবে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে শুক্রবার পর্যন্ত বৃষ্টি ঝরবে সারাদেশেই। ঈদের দিনেও দেশের অনেক অংশে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গতকাল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বায়ুর গতিবেগ ছিলও ঘণ্টায় ১১১ কিলোমিটার। আজ বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ অঞ্চলে ঝড়ের গতি বেড়ে ১২৫-১৩৫ কিমি প্রতিঘণ্টা হবে, যা ক্রমে ১৫০ কিমি প্রতিঘণ্টা হবে। বঙ্গোপসাগরের উত্তরে তার গতি বেড়ে ১৬০-১৭০ কিমি প্রতিঘণ্টা থেকে ১৯০ কিমি প্রতিঘণ্টায় হবে মঙ্গলবার। আম্পানের গতি বুধবার ১৫৫-১৬৫ কিমি প্রতিঘণ্টা থেকে ১৮০ কিমির মধ্যে থাকবে।