করোনা রোগীর সেবায় গাড়ির পর এবার নিজের বাড়িও দান করলেন ব্যারিস্টার সুমন

প্রাণঘাতী নোভেল করোনা ভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি দেয়ার পর এবার নিজের থাকার বাড়িও দিয়েছেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন। ওই বাড়িতে ডাক্তারসহ ১৭ জন থাকার ব্যবস্থা করেছেন তিনি। এ সময় নিজে অন্যত্র পরিবার নিয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন সুমন।



ব্যারিস্টার সুমন জানান, তার বাড়ি ব্যবহারের জন্য প্রস্তাব আকারে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। তার গাড়ি ও বাড়ি ব্যবহার করে যাতে ডাক্তাররা আরো বেশি সেবা দিতে পারেন তার জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবেন চিকিৎসকরা তাই তার এ সিদ্ধান্ত।


এর আগে ব্যারিস্টার সুমন তার ৪১ দিনের বেতনের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা করোনার জন্য দরিদ্রদের কল্যাণে ব্যয় করেন। তিনি পাঁচ জন ডাক্তারের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল টিমও গঠন করেন।

এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোজাম্মেল হোসেন জানান, আমরা ব্যারিস্টার সুমনের দেয়া গাড়ি ব্যবহার করছি। এটি প্রতিদিন আসে।

হবিগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এ ব্যাপারে আমরা প্রস্তাব পেয়েছি। যখন প্রয়োজন হবে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। তবে এ মুহূর্তে জেলা শহরে এ ধরনের সুবিধা বেশি প্রয়োজন। এদিকে হবিগঞ্জে করোনা ভাইরাসে প্রথম আক্রান্ত রোগী শনাক্তের পর হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের জন্য হোটেল বুকিং করেছে জেলা প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে হোটেলে থেকেই হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন তারা।


হাসপাতালের চিকিৎসকসহ ৬১ জন স্টাফ সেখানে দায়িত্ব পালন করবেন। একজন ডাক্তার টানা এক সপ্তাহ আইসোলেশন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি সেখানেই থাকা একটি রুমে রাত্রিযাপন করবেন। এক সপ্তাহ পর তার নমুনা সংগ্রহ করা হবে করোনা পরীক্ষার জন্য। এ সময় তিনি চলে যাবে হোটেলে। সেখানে কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। পরে রিপোর্ট আসলে যদি নেগেটিভ হয় তাহলে বাসায় ফিরতে পারবেন এবং পুনরায় রোস্টারে তার ডিউটি থাকবে। আর পজিটিভ হলে হোটেলেই প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশনে থাকবেন এবং সেখানে চিকিৎসা চলবে।

হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অমিতাভ পরাগ তালুকদার জানান, হবিগঞ্জ শহরের কালিবাড়ি রোডস্থ আশরাফ জাহান কমপ্লেক্সে সোনার তরী হোটেলের তৃতীয় তলা চিকিৎসকদের জন্য বুকিং দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরো একটি হোটেল বুকিং করা হবে।


হবিগঞ্জ আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. দেবাশীষ দাস জানান, হাসপাতালটিতে সর্বমোট ৩১ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। সদর হাসপাতালের কর্মরত ২১ জন, শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের চারজন বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন উপজেলা হাসপাতাল থেকে আসা ছয়জন। এদের আবাসনের জন্য প্রশাসন হোটেল বুক করেছে।

গত বুধবার দিবাগত রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা এক মাইক্রোবাসচালককে হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যার আধুনিক জেলা সদর হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই তার নমুনা সংগ্রহের পর ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল। শনিবার রিপোর্ট আসলে জানা যায়, তার শরীরে করোনা পজিটিভ।