ধর্ষণের জন্য শিশুরাই তার প্রধান টার্গেট !

প্রতিবন্ধী সুলতান মিয়ার দু'টি পায়েই সমস্যা। প্রতিবন্ধী কোটায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালায় সে। তাকে দেখলেই সহমর্মী হয়ে উঠবে যে কেউ। কিন্তু তার মানসিকতা বড় কুৎসিত, বিকৃত মস্তিস্কের। এই সুলতান মিয়া একজন সিরিয়াল রেপিস্ট (ক্রমিক ধর্ষক)। তার টার্গেট শিশুরা।



রাজধানীর কদমতলী থানার একটি ধর্ষণ মামলায় তাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পারে, এই পাষণ্ড এক এক করে অন্তত পাঁচটি শিশুকে ধর্ষণ করেছে। পুলিশের ধারণা, আরও অনেক শিশু সিরিয়াল রেপিস্ট সুলতানের বর্বরতার শিকার হয়ে থাকতে পারে।


ধর্ষক সুলতানের বিষয়ে কদমতলী থানা পুলিশ জানায়, গত রোববার সন্ধ্যার দিকে পূর্ব জুরাইনে একটি মাদ্রাসা থেকে ৫-৬ বছর বয়সী তিন শিশু বাসায় ফিরছিল। ওই সময় সুলতান শিশু তিনটিকে আচার কেনার লোভ দেখিয়ে তার বাসায় নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে তিন শিশুকেই বিবস্ত্র করে ফেলে। তখন একটি শিশু কান্না করলে তাকে ১০ টাকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ওই শিশু ঘটনাটি তার মাকে জানালে ওই মা সুলতানের বাসায় গিয়ে দুই শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় পান। ওই সময়ে ধর্ষক সুলতান পালিয়ে যায়। পরে এক শিশুর বাবা ঘটনাটি পুলিশকে জানালে পুলিশ তৎপর হয়। সুলতানকে গ্রেপ্তার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পুলিশের শ্যামপুর জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুন নাহার সমকালকে বলেন, 'নৃশংস ঘটনাটি জানার পরই ধর্ষক সুলতানের অবস্থান শনাক্তে একটি বিশেষ টিম করি আমি। পাশাপাশি পাশবিকতার শিকার শিশু দুটিকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। টিমের সদস্যরা টানা অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে গত সোমবার গভীর রাতে ধর্ষক সুলতানকে গ্রেপ্তার করে।'


পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যে তারা বিব্রত হয়ে পড়েন। গ্রেপ্তার সুলতান শুধু ওই দুটি শিশুকেই ধর্ষণ করেনি; এর আগে আরও অন্তত তিনটি শিশুকে ধর্ষণ করেছে বলে তথ্য দিয়েছে। তারা ধারণা করছেন, পেশায় রিকশাচালক সুলতান যে এলাকাতেই থেকেছে সেখানেই সে অপকর্ম করেছে। কিন্তু অনেক ঘটনাতেই অভিভাবকরা লজ্জায় পুলিশকে কিছু জানাননি। গ্রেপ্তার সুলতানও এখন আর সব ঘটনার ঠিকানা মনে করতে পারছে না বা মুখ খুলতে চাচ্ছে না। কদমতলী থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষক সুলতান বলেছে, সে শিশুদের বিভিন্ন খেলনা ও খাবার কিনে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে ধরে নিয়ে যেত। এর পর নিজ বাসায় নিয়ে ধর্ষণ করত। গত রোববার পূর্ব জুরাইনে ওই ঘটনার আগে কদমতলী এলাকায় আরেক শিশুকে ধর্ষণের পর সে লোকজনের হাতে ধরেছে বলে জানিয়েছে। পরে স্থানীয়ভাবে তা মীমাংসা করে দেওয়ায় পুলিশ জানতে পারেনি। এর আগে সূত্রাপুরে এক শিশুকে ধর্ষণ করে এই সুলতান গ্রেপ্তার হয়েছিল। জামিনে বের হয়ে ফের একই অপরাধ করেছে।


কদমতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুজ্জামান সমকালকে বলেন, 'ধর্ষণের শিকার দুই শিশুর একজনকে চিকিৎসা শেষে বাসায় নেওয়া হয়েছে। অপর শিশুটির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।'