মারা গেলেন কিম জং উন !

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, উত্তর কোরিয়ার সুপ্রিম নেতা কিম জং-উন আর বেঁচে নেই। হংকংয়ের এইচকেএস  স্যাটেলাইট টেলিভিশন এমন খবর প্রকাশ করলেও উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় কোনো মাধ্যম এখনও এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেনি। কিছুই জানানো হয়নি তাদের নেতার শারীরিক অবস্থা।



কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা নিয়ে ইথারে যখন নানা খবর ছড়িয়ে পড়ছে তখন উত্তর কোরিয়ায় একদল বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে পাঠিয়েছে চীন। কিম জং উনের শারীরিক অবস্থা তারা নির্ধারণ করবেন বলে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রিপোর্ট করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।


এ বিষয়ে নিউজউইককে পেন্টাগনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, উত্তর কোরিয়ার নেতার শারীরিক অবস্থা নিয়ে যেসব খবর প্রকাশ পাচ্ছে তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র অব্যাহতভাবে নজর রেখে চলেছে। এই সময়ে কিম জং উন মারা গেছেন এমন কোনো নিশ্চয়তা অফিসিয়াল চ্যানেল থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঐতিহাসিক আদর্শে এখনও উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনী প্রস্তুত।

উল্লেখ্য, কিম জং উনকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা যায় ১১ এপ্রিল পলিটব্যুরোর এক মিটিংয়ে। তবে ১৫ এপ্রিল দেশের প্রতিষ্ঠাতা গ্রান্ডফাদার কিম ইল সাংয়ের জন্মদিনে তাকে অনুপস্থিত দেখা গেছে। সাধারণত এ অনুষ্ঠান কোনোভাবেই অনুপস্থিত থাকেন না তিনি। এ অবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে যে, উত্তর কোরিয়ার নেতা গুরুত্বর অসুস্থ। তার হার্টের অপারেশন করা হয়েছে ১২ই এপ্রিল।


দক্ষিণ কোরিয়া ভিত্তিক ডেইলি এনকে খবর প্রকাশ করে যে, অপারেশনের পর কিমের অবস্থা গুরুতর। এরপরই জল্পনা আরো ডালপালা বিস্তার করতে থাকে। উল্লেখ্য, ডেইলি এনকে হলো মার্কিন কংগ্রেসের অর্থায়নে চলা কিছু প্রতিষ্ঠাণের অন্যতম। তারা সিএনএনের একটি রিপোর্টের পাশাপাশি কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে ওই রিপোর্ট প্রকাশ করে।

গত মঙ্গলবার মার্কিন দু’জন কর্মকর্তা নিউজউইককে বলেছেন, কিম গুরুতর কোনো রোগে ভুগছেন এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। একই সময়ে দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ সরকারি এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে খবর প্রকাশ করে যে, কিম জং উন অসুস্থ এমন কোনো অস্বাভাবিক ঘটনার খবর উত্তর কোরিয়া থেকে পাওয়া যায়নি।


দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইনের অফিস থেকে বলা হয় তাদের কাছেও এ বিষয়ে কোনো খবর নেই। তবে কিম জং উনের এসব খবর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চীন ও রাশিয়ার কর্মকর্তারা। প্রশ্ন তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পও, যিনি উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতার সঙ্গে প্রথম মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট হিসেবে আলোচনায় বসেছিলেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেছেন, "সিএনএন এ নিয়ে যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তা ঠিক নয়। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আমার ভালো সম্পর্ক। কিম জং উনের সঙ্গেও। আমি আশা করি তিনি ভালো আছেন।"


সূত্র- সময় নিউজ