ত্রাণ চাওয়ায় এমপি বললেন, "হাওরে গিয়ে ডুব দে"

করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সারা দেশের মতো মৌলভীবাজারেও বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্নআয়ের মানুষ। কর্মহীন এইসব মানুষের পাশে নেই জনপ্রতিনিধিরা। এই দুঃসময়ে জনগণের পাশে না থাকা জনপ্রতিনিধিদের একজন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর। তিনি কোথায় আছেন জানে না তার এলাকার লোকজন।



অথচ ওই এলাকার মানুষদের বাঁচিয়ে রাখতে দরকার একজন শক্ত নেতা। কিন্তু সংসদ সদস্য সুলতান মোহাম্মদ মনসুর একজন ত্রাণ প্রার্থীকে হাওরে ডুবে মরতে বললেন। দুর্যোগের কথা জানিয়ে ত্রাণসামগ্রী চাইলে নিজ এলাকার এক অসহায় ব্যক্তিকে তুলোধুনো করেছেন সুলতান মোহাম্মদ মনসুর।

ওই ব্যক্তির সাথে সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের ফোনালাপ ফাঁস হলে সেটি ভাইরাল হয়ে যায়। এক উত্তরে তিনি বলেন, ‘তুমি গরিবনি?’ ফোনের ব্যক্তি বলেন,  ‘জ্বি হয়, গরিব।’ সুলতান মনসুর বলেন, ‘....(অস্পষ্ট)। না পারলে ভূকশিমইল হাওরে গিয়ে ডুব দেউ।’ (কুলাউড়া-ভূকশিমইল সড়কের পাশে হাকালুকি হাওরের অবস্থান)।


তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, "আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না, আমি ওই ছেলেকে চিনি না। আর আমিতো তার অথরিটি না।"

এই মানুষদের বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে সহযোগিতা করতে সরকার, সামাজিক, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এগিয়ে এলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নেই জনগণের পাশে।


দরিদ্রদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের মতো কার্যক্রমে নেই অধিকাংশ এমপি। জনপ্রতিনিধিদের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

সুলতান মনসুরের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তি মৌলভীবাজাররে কুলাউড়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের প্রতাবী গ্রামের বাসিন্দা। তবে তার নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।




সূত্র - কালের কন্ঠ