মদ না পেয়ে স্পিরিট পানে বিএনপি নেতার ছেলের মৃত্যু !

পাবনার ঈশ্বরদীতে স্পিরিট পানে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১২ এপ্রিল) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।



মৃত্যুবরণকারী ওই দুই যুবক হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোকলেছুর রহমান বাবলুর ছেলে ওহেদুর রহমান সজল (২৮) ও সজলের বন্ধু ফতেমোহাম্মদপুর এলাকার মৃত সামুর ছেলে রাজু (৩২)।


স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে ঈশ্বরদী পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের পৌর কাউন্সিলর কামাল আশরাফি জানান, শনিবার (১১ এপ্রিল) রাতে ঈশ্বরদীর রেলওয়ের সরকারি নাজিমউদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের হোমিও ওষুধ বিক্রেতা শ্যামল ওরফে হায়দারের কাছ থেকে স্পিরিট ক্রয় করেন তারা। তা খাওয়ার এক পর্যায়ে দুইজনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোববার সকালে প্রথমে তাদের ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার রাত পৌনে ৮টার দিকে রাজুর ও সাড়ে ৯টায় সজলের  মৃত্যু হয়।


নিহত সজলের ছোট ভাই মাহাদী রহমান শাহারাত জানান, শনিবার রাতে তার ভাই সজলের হঠাৎ পেটে গ্যাসের সমস্যা দেখা দিলে সকালে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে স্পিরিট পানের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

ঈশ্বরদী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দীন ফারুকী বলেন, করোনার পাদুর্ভাবের জন্যে ঈশ্বরদীতে মদের সংকট হওয়ায় তারা স্পিরিট পান করেছেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।


তবে স্পিরিটের সাথে বিষাক্ত কোনো কিছু থাকতে পারে বলে ধারনা করা হচ্ছে। তাদের মরদেহ রাজশাহীতে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরে ঈশ্বরদীতে আনা হবে বলে পরিবার নিশ্চিত করেছেন। তবে ঘটনার পর পরই ঈশ্বরদী থানা পুলিশ স্পিরিট বিক্রেতা শ্যামলের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করতে পারেনি। তিনি পলাতক রয়েছেন বলেও জানান ওসি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো প্রকার অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।