করোনার মধ্যেই ঢাকায় ডেঙ্গু বিপর্য‌য় শুরু !

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পাশাপাশি রাজধানীতে ক্রমেই বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার। এরই মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ২৯১ জনে পৌঁছেছে।



এ অবস্থায় মশা নিধনের কীটনাশক সহজলভ্য করতে শিগগিরই বেসরকারি সংস্থাকেও ওষুধ আমদানির তাগিদ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর। তবে নিরাপত্তা বিবেচনায় সিটি কর্পোরেশনকে অনুমতি দেয়ার কথা জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী।


গত বছর ১ লাখ ১ হাজার ৩৫৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর মারা যান ১৭৯ জন। গত বছরের এপ্রিল পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল ১৩১ জন। সেখানে চলতি বছর এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯১ জনে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের পাশাপাশি এ বছর ডেঙ্গুর ভয়াবহতাও ক্রমেই বাড়ছে।

এ অবস্থায় দফায় দফায় বৈঠক করে কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি ওষুধ ছিটানোর আগেই রাজধানীর খালসহ মশার উৎপত্তিস্থল পরিষ্কার করার তাগিদ মেয়রদের।


ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, মশার জন্মস্থান আগে ধ্বংস করতে হবে। এ জন্য অবশ্যই সব কিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখেতে হবে। আমি রাজউক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার সাথে বসে আলোচনা করেছি, যেন তারা এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করে।

এদিকে মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে কীটনাশক সহজলভ্য করতে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে আমদানির অনুমতি চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

এলজিআরডি মন্ত্রী মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, যে সব কীটনাশক বাংলাদেশে আনা হয় সেগুলো গুণগত মান নিশ্চিত করে যদি একাধিক প্রতিষ্ঠান আমদানি করতে পারে তাহলে প্রত্যেক ব্যক্তি তার আঙ্গিনা থেকে শুরু করে বাড়ির আশপাশে স্প্রে করতে পারবেন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে কীটনাশকের মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা বিধানের শর্তে আপাতত দুই সিটি কর্পোরেশনকে কীটনাশক আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।


কৃষিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কীটনাশকেরও অনেক ক্ষতিকারক দিক আছে। সেগুলো বিবেচনায় রেখে যাতে বাংলাদেশে আনতে পারে সেই দিক পরিকল্পনা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণের মেয়রকে গত বছর সহজ করে দিয়েছিলাম। এ বছরও সেটি অব্যাহত থাকবে।

ওষুধ প্রয়োগে ইতোমধ্যে মশার প্রজনন স্থলসমূহ চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাড়ি ঘর পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেটি নিশ্চিত করতে সবার প্রতি আহ্বান এলজিআরডি মন্ত্রীর।