করোনার করুণকালেও এক রাষ্ট্রনেতার কঠিন চেহারা!

করোনা সংকেট আরো একবার বেরিয়ে পড়েছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের অমানবিক রূপ৷ ৯০ হাজার কারাবন্দিকে সাধারণ ক্ষমার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। দেশটিতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে করোনা পরিস্থিতি। এরই মধ্যে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫১৮ জনের।



বৈশ্বিক মহামারি কেভিড-১৯ মোকাবেলায় মানুষের হাতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা৷ যা নিশ্চিত করতে লকডাউন হচ্ছে একের পর এক দেশ৷ জনগণকে একান্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না গিয়ে বাড়িতে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে৷ এ পরিস্থিতে অন্যান্য দেশের মত তুরস্কও প্রায় ৯০ হাজার কারাবন্দিকে সাধারণ ক্ষমা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ পার্লামেন্টে এ সংক্রান্ত একটি বিলও পাস হয়েছে৷ তবে করোনার এমন করুণকালেও জেলেই থাকতে হবে ভিন্ন মতাদর্শের সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতাদের।

ডয়েচ ভেলের সাংবাদিক হুলিয়া শেঙ্ক বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের পারষ্পরিক বোঝাপড়া এবং ধৈর্য ধারণ প্রয়োজন৷ বিশেষ করে তুরস্কের মত দেশে, যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতাধরদের প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গেছে৷
অথচ, এই সময়ও এরদোগান তার দমনমূলক শাসন নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন৷ শুধু রাজনৈতিক মতভেদের কারণে কারাবন্দি বিরোধী রাজনীতিক ও সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না৷

নিয়ম মেনে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বন্দিরা সাধারণ ক্ষমার আবেদন করেছিলেন বলেও জানান এ সাংবাদিক৷

সরকারের এই 'অমানবিক' উদ্যোগের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণর পথও প্রায় বন্ধ৷ কারণ, দেশটির বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা নেই৷ সেখানে সব নিয়োগ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রেসিডেন্টের পছন্দে হয়ে থাকে৷ ফলে দেশটিতে সরকারের সামান্য সমালোচনা করলেও গ্রেপ্তার হতে হয় এবং আটক ব্যক্তিদের হাতে আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোন সুযোগ থাকে না৷

সূত্র- ডি ডব্লিউ।