ত্রাণ দিচ্ছেন, ছবি না তোলায় দুস্থদের মারধর করলেন চেয়ারম্যান, ভিডিও

সরকারি ত্রাণ বিতরণের সময় ছবি তুলতে না চাওয়ায় কয়েকজন দুস্থকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ত্রাণ নিতে আসা অসহায় নারী-পুরুষকে নির্যাতন করে ভিডিও ধারণ করতেও বাধ্য করেছেন তিনি।



সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুস্থদের মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। গত শুক্রবারের এই ঘটনায় মহিউদ্দিন বিশ্বাসের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছে এলাকার লোকজন।


জানা গেছে, দৌলতপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের জন্য সরকারিভাবে ৪৫০ জন দুস্থ নারী-পুরুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়। শুক্রবার ইউপি কার্যালয়ে দুস্থ নারী-পুরুষের মাঝে নিজ হাতে সরকারি বরাদ্দের ত্রাণ বিতরণ করেন চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাস।

সরকারি ত্রাণ বিতরণের সংবাদ প্রচারের জন্য স্থানীয় কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীকে আমন্ত্রণ জানান চেয়ারম্যান। দু’একজন গণমাধ্যমকর্মী তার ত্রাণ বিতরণের ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় ছবি তুলতে না চাওয়ায় দুস্থ-অসহায় কয়েকজন নারী-পুরুষকে মারধর করেন মহিউদ্দিন বিশ্বাস। পরে তাদের জোর করে ছবি তোলান। একজন বৃদ্ধকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়েও দেন তিনি।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মহিউদ্দিন বিশ্বাসকে নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।

এ ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মীর সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যানের উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যানের পৃষ্ঠপোষক কারা জানতে চেয়ে তাদেরও শাস্তি চান তিনি।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন বিশ্বাসের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এমন আচরণ করেছি আমি।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার বলেন, বিষয়টি জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে জানানো হয়েছে। তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আসলাম হোসেন। এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপপরিচালক মৃনাল কান্তি দে বলেন, ইউএনও আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তদন্তপূর্বক এ ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।