ক্ষুধার জ্বালায় আত্মহত্যা করল ১০ বছরের আফরোজা

বাবা তাঁত শ্রমিক। করোনাভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ১০ দিন হলো তার কারাখানা বন্ধ। কয়েকদিন ধরে অনাহারে তাঁত শ্রমিক বাবার পরিবারটি। খাবারের জন্য কান্নাকাটি করায় পিতা থমক দেন সন্তানকে। পেটের ক্ষুধার মধ্যে বাবার ধমক সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে শিশু সন্তানটি। এমনটিই দাবি নিহতের স্বজনদের।



শুক্রবার বিকেলে সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খাবারের অভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় প্রতিক্রিয়া তৈরী করেছে।

নিহত শিশুটির নাম আফরোজা খাতুন (১০)। তার পিতার আলম শেখ পেশায় একজন তাঁত শ্রমিক। তারা স্থানীয় কামারপাড়া ওয়াপদা বাঁধে থাকতেন।

নিহতের স্বজনরা জানিয়েছেন, তাঁত শ্রমিক আলম শেখের কারখানা বন্ধ দশদিন। জমা টাকায় ৪/৫দিন সংসার চললেও গত কয়েকদিন কার্যত অনাহারে ছিলেন শিশুসহ পরিবারের সদস্যরা। এ সময়ে আলম পাননি সরকারি অথবা বেসরকারি সহায়তা। কেউই খোঁজ নেননি। আফরোজার মৃত্যুর পর অনেকে এসেছেন বাড়িতে। পৌর মেয়র শনিবার খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। ওয়াপদা বাঁধে প্রায় ৫ ‘শ পরিবারের বাস। জনপ্রতিনিধিরা তাদের অনেকের আইডি কার্ড নিয়ে গেলেও ত্রাণ সহায়তা মেলেনি।

বাবা আলম শেখ বলেন, ‘করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসন কড়াকড়ি করছে। তাই দশদিন ধরে কাজ করতে পারছিনা। ঘরেই শুয়ে বসে দিন কাটাচ্ছি। হাতে নগদ টাকা নাই, তাই চালডাল কিনতে পারিনি। ঘরে খাবার নেই বলে মেয়ে কান্নাকাটি করছিল। আমি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দিয়েছিলাম। এরপর মেয়েটা আত্মহত্যা করেছে।’

বেলকুচি পৌরসভার মেয়র আশানূর বিশ্বাস বলেন, ‘কর্মহীন দুস্থ মানুষের জন্য সরকারি সাহায্য অপর্যাপ্ত। সে কারণে সকল মানুষকে একসাথে ত্রাণ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা। খাদ্য সহায়তা আরো বাড়ানো দরকার।’

বেলকুচির উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত-ই-জাহান বলেন, ‘প্রথম দফায় পরিবারটিকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। তারপরও কেন এ ধরণের ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শনিবার আবারও পরিবারটিকে ১০ কেজি চাল, ডাল, তেল,পেঁয়াজ, লবণ ও আলু দেওয়া হয়েছে।’

বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর-এ-আলম বলেন, ‘শিশুর পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।’