Sponsored

রক্তারক্তিতে শেষ হলো পুরুষদের উলঙ্গ উৎসব


জাপানের ৫০০ বছরের পুরনো নেকেড ফ্যাস্টিভ্যাল বা উলঙ্গ উৎসব শেষ হয়েছে। যুগ যুগ ধরে বছরের ২য় মাসের ৩য় শনিবার ঘটা করে পালিত হয় এই উৎসব। এবারেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। প্রথা মেনে ১৫ ফেব্রুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত হয় সে উৎসব। নেংটি আর আর মোজা পরে এবারের এই নেকেড ফ্যাস্টিভ্যালে ১০ হাজারের বেশি পুরুষ অংশ নিয়েছিলেন।


জাপানে এখনও হাড় কাঁপানো শীত। এর মধ্যেই শনিবার স্থানীয় সময় বিকেল তিনটের সময় উলঙ্গ পুরুষেরা জমায়েত হয়েছিলেন হাদাকা মাৎসুরি নামে খ্যাত এই উৎসবে। তারা ভিড় জমান ওকায়ামা শহরের সাইদাইজি কান্নোনিন মন্দিরের সামনে। প্রার্থনা দিয়ে শুরু হয় উৎসব। বরাবরের মতো এবারও তারা দেশের কৃষি জমির উর্বরতার জন্য প্রার্থনা করেন। অগুনিত মাথার ভিড়ে গমগম করতে থাকে মন্দির প্রাঙ্গন। এই ফসল উৎসব আগামী প্রজন্মকে কৃষির প্রতি আকৃষ্ট করার জন্যই।

উৎসবের অংশ হিসাবে পুরুষরা কয়েক ঘন্টা মন্দিরের মাঠের চারপাশে দৌড়াদৌড়ি করেন। তারপর জমাট বাঁধা বরফের পবিত্র জলে স্নান করে নিজেকে শুদ্ধ করে মূল মন্দিরের দিকে যান। এরপর মন্দিরের পুরোহিত ১০০টি মন্ত্রপূত লাঠি ছড়িয়ে দেন মন্দিরের মাঠে। সেখানে অপেক্ষায় থাকা পুরুষেরা দুটি ভাগ্যবান লাঠির দখল নিতে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। কেননা তাদের বিশ্বাস, যারাই ওই লাঠি দুটি পাবে গোটা বছরটি তার ভালো কাটবে। তো সেই ভাগ্যবান লাঠির অধিকার কি এত সহজে মেলে। স্বাভাবিকভাবেই লাঠির দখল নিয়ে উলঙ্গ পুরুষদের মধ্যে শুরু হয় হাতাহাতি। এভাবেই দিনের শেষে রক্তাক্ত শরীর নিয়ে শেষ হয় জাপানি পুরুষদের নেকেড উৎসব।

ওকায়ামার পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র মিকো ইটানো জানিয়েছেন, ‘জাপানি ছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত দর্শনার্থীরাও এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। আশা, আগামী প্রজন্ম বিশ্বাস রাখবে এই উৎসবে। ভবিষ্যতেও ধরে রাখবে যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্যকে।’