Sponsored

করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বিপদজনক সময় আগামী ২১ দিন


দেশের খবরঃ- এখন থেকে আগামী ২ থেকে ৩ সপ্তাহ করোনাভাইরাসে দেশের জন্য সবচেয়ে বিপদজনক সময়। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সামাজিকভাবে নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা আছে। গতকাল পর্যন্ত যারা আক্রান্ত দেশ থেকে ফিরেছেন, তাদের কাছ থেকে করোনার জীবাণু ছড়ালেও সর্বোচ্চ আগামী ২১ দিনের মধ্যেই তা প্রকাশ পেতে থাকবে।


ভাইরোলজির ভাষায় একে বলা হয়‘পিক টাইম’। এসময় সংক্রমিত হতে পারে অসংখ্য মানুষ। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এমন আশঙ্কা করছেন দেশের ভাইরোলজি বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যেসব দেশে ভাইরাসটি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে সেই দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে রাখা হলে এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তবে এখনও যদি ছড়িয়ে পড়া দেশ থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে আনা হয় তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের উন্নত প্রযুক্তির রাষ্ট্রগুলো সব সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও নতুন করোনাভাইরাসে মহামারী ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই ব্যর্থতার মূল কারণ, ওই দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা প্রকৃত পরিস্থিতি অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা সময়ের কাজ সময়ে করতে পারেনি। এসব দেশের প্রতিটিতেই ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল আক্রান্ত দেশ থেকে আসা দু-একজন ব্যক্তির মাধ্যমে।


ভাইরোলজির দৃষ্টিকোণ থেকে পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যেসব দেশে ভাইরাসটির ব্যাপক সংক্রমণ ঘটেছে সেসব দেশে প্রথম ২ থেকে ৩ সপ্তাহ হাতেগোনা কয়েকজনের দেহে এটি শনাক্ত হয়।

একটা পর্যায়ে সেই সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকে। এর কারণ, প্রথমে দেশে প্রবেশ করা সেই দু-একজন ব্যক্তি তাদের পরিবার থেকে শুরু করে যত মানুষের সংস্পর্শে গিয়েছেন, তাদের অনেকের দেহেই ভাইরাসের সংক্রমিত হয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণের লক্ষণগুলো প্রকাশ হতে সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হয়। তাছাড়া সাধারণ সর্দি-কাশি বা ফ্লুর সঙ্গে এর উপসর্গগুলোর মিল থাকায় পরীক্ষা না করে, শুধু শারীরিক লক্ষণ দেখে এটি আলাদা করা সম্ভব হয় না।

এ প্রসঙ্গে প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ বাংলাদেশের জন্য বিপজ্জনক সময়। আমাদের হিসাব মতে, এই সময়ে দেশে নতুন করোনাভাইরাসের পিক হবে। যা হওয়ার এই সময়ে হয়ে যাবে। তিনি বলেন, যেসব সতর্কতা এখন নেয়া হচ্ছে এগুলো আরও আগেই নেয়া দরকার ছিল।

পিক টাইম হলে আরেকটি ডিজাস্টার ঘটবে সেটা চিকিৎসক ও সেবাদানকারীদের ক্ষেত্রে। কারণ তাদের হাতে পর্যাপ্ত পার্সনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট নেই। ফলে যারা চিকিৎসা ও সেবা দেবেন তারা ব্যাপকভাবে ভাইরাসটি দ্বারা সংক্রমিত হতে পারেন। অধ্যাপক নজরুল বলেন, আমরা এ ধরনের ঝুঁকি থেকে অনেকাংশই নিরাপদে থাকতে পারতাম যদি সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়া দেশগুলো থেকে আসা যাত্রীদের বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে নিতে পারতাম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রভাবশালীদের জন্য সেটি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দেশে পরিস্থিতি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাংলাদেশে কোভিড-১৯ এর প্রথম রোগী শনাক্ত হয় ৮ মার্চ। বর্তমানে সেই সংখ্যা ২০ জন, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ জনের। অর্থাৎ ইতালি থেকে আসা ১৪২ জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে পাঠিয়ে দেয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই দেশের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। এখন পর্যন্ত যে ২০ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে তাদের সবাই কোভিড-১৯ এর মহামারী আক্রান্ত দেশ থেকে আসা বা তাদের পরিবারের সদস্য। অথচ শুরুতেই ঝুঁকিপূর্ণ দেশ থেকে আসা যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখলে দেশ মহামারীর হুমকিতে পড়ত না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যে দেখা গেছে, গত দুই মাসে সমুদ্র, সড়ক ও আকাশপথে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৭৪২ জন। যাদের বেশির ভাগই কোভিড-১৯ এর মহামারী চলছে, এমন দেশ থেকে এসেছেন। সতর্কতার জন্য দেশের প্রবেশপথগুলোতে এসব যাত্রীর স্ক্রিনিং করা হয়। তবে সংক্রমণের লক্ষণ প্রকাশ পেতে এক থেকে দুই সপ্তাহ সময় লাগায় স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে কেউ যে ভাইরাসটির বাহক তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। ফলে বাহকরা দেশে ফিরে বিভিন্ন মানুষের সংস্পর্শে এসে নিজের অজান্তেই ভাইরাসটি ছড়িয়ে দিচ্ছেন।