Sponsored

করোনা ‍আতংকে মুরগির কেজি ১০ টাকা


করোনার ‍আতংকের জেরে ভারতজুড়ে তলানিতে গিয়ে পড়েছে পোলট্রির ব্যবসা। ফেসবুকে গুজবের জেরে বর্তমানে মুরগির মাংস ও ডিম খাওয়ার ব্যাপারেও অনীহা প্রকাশ করেছেন সাধারণ জনতা। ফলে করোনার প্রকোপ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবের জেরে ব্যবসা বাঁচাতে মাত্র ১০ টাকা কেজিতেই মুরগি বিক্রি হচ্ছে ভারতের পুনেতে !


সেখানকার এক চাষী জানান, করোনার জেরে এখন একশ শতাংশ লোকসানে চলছে পোলট্রির ব্যবসা। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজবে কান দিয়ে মুরগি কিনতে আগ্রহী নন কেউই। কয়েক সপ্তাহ আগে যদিও ৮০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে এক কেজি মুরগির মাংস বিক্রি হয়েছে। সেই টাকাই এখন দাঁড়িয়েছে ১০ টাকায়।

ভারতের পুনের এক পোলট্রি ফার্মের মালিক জানিয়েছেন, 'কয়েক সপ্তাহ আগে আমার প্রায় ১০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। বাজারে একদম মুরগির চাহিদা নেই। ফলে প্রান্তিক গ্রামে গাড়ি করে খুব কম দামে মুরগি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।'

অন্যদিকে পশুপাল বিভাগ এবং ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে যে, করোনার সঙ্গে মুরগির কোনো সম্পর্ক নেই। বার্ড ফ্লু নিয়ে আগে থেকেই মানুষের মনে ভীতি রয়েছে। সেই থেকেই তারা ভাবছেন করোনা ভাইরাসও মুরগি থেকে ছড়ায়। সরকারী কর্মী ও চাষীরা মানুষজনকে কিছুটা হলেও বোঝাতে পেরেছেন। তাতে অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে ধারণা করছেন সরকারী দপ্তর।

অ্যাসোশিয়েসনের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, গোটা মহারাষ্ট্রের পোলট্রি চাষীরা কয়েক সপ্তাহ আগে মোট ৭০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তার কথায়, মুরগির মাংস খাদ্যবস্তু। বহুদিন ধরে এটিকে স্টক করে রাখা যায় না। যাই দাম হোক না কেন, মুরগি বিক্রি করতে হবে। এক সপ্তাহ আগে এক কেজি মুরগির মাংস বিক্রি হয়েছে মাত্র ৭০ টাকায়। সেই দাম বর্তমানে ১০ থেকে ২০ টাকায় নেমে গিয়েছে।

মহারাষ্ট্রে পোলট্রি ব্যবসায় এমন করুণ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহারাষ্ট্রের পোলট্রি ব্রিডারস ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। তাদের কথায়, 'এই ক্ষতির জন্য সরকার আমাদের জন্য কিছুটা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা জানি না কীভাবে ব্যাংকের লোন, বিদ্যুতের বিল ও মাসিক খরচ চালাব। কেন্দ্রের কাছেও ক্ষতিপূরণ চেয়ে অনুরোধ করা হবে।'