Sponsored

করোনা আক্রান্ত এক নারীর সুস্থ হয়ে ফেরার গল্প


গত ডিসেম্বর থেকে এপর্যন্ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯১৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। আর এরমধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৭০ হাজার ৩৯৬ জন। ঘরে ফেরা এসব মানুষদের মধ্যে প্রথমবারের মত এক মার্কিন নারী কিভাবে সুস্থ হলেন তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার গল্প বলেছেন।


ওয়াশিংটনের সিয়াটলের বাসিন্দা এলিজাবেথ স্কিনেইদার জানান, আক্রান্ত হওয়ার পর বাসায় নিজের চিকিৎসা তিনি নিজেই করেছেন। মানুষকে ‘কিছুটা আশা দিতেই’ এই গল্প তিনি সবাইকে শোনাচ্ছেন।

৩৭ বছরের এলিজাবেথ জীবপ্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। করোনা আক্রান্তদের পরার্মশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাড়িতে থাকার ব্যাপারে, অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকার ব্যাপারে আমাদের অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হবে।’

২৫ ফেব্রুয়ারি স্কিনেইদারের মধ্যে ফ্লু এর মতো লক্ষণ প্রথম দেখা যায়। এর তিন দিন আগে তিনি এক পার্টিতে গিয়েছিলেন। সেখানে থাকা আরো অন্তত পাঁচ জনের মধ্যে সংক্রমণের দেখা দিয়েছিল।

বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘ক্লান্তিবোধ নিয়ে আমার ঘুম ভেঙ্গেছিল। তবে সাধারণত ঘুম ভাঙ্গার পর কাজে যাওয়ার যে অনুভূতি থাকে এটা তারচেয়ে বেশি কিছু ছিল না। কারণ বিগত সপ্তাহে আমার খুব ব্যস্ত সময় কেটেছিল।’

দুপুরের মধ্যে স্কিনেইদারের মাথাব্যথা শুরু হয়। এরই মধ্যে শরীরে জ্বর চলে আসে এবং সারাদেহে ব্যথা অনুভূত থাকে। অফিস থেকে বাসায় ফিরে লম্বা ঘুম দেন তিনি। ঘুম ভাঙ্গার পর দেখতে পান তার দেহের তাপমাত্রা ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটে গিয়ে ঠেকেছে। করোনাভাইরাসের সাধারণ লক্ষণ সর্দি কিংবা শ্বাসকষ্ট ছিলো না তার মধ্যে।

গত ৭ মার্চ তার গবেষণা সমন্বয়ক দলের এক সদস্যের কাছ থেকে ফোন পান এলিজাবেথ। তাকে জানানো হয়, ‘আপনার দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।’

স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ এলিজাবেথকে অন্তত সাত দিন বাসায় থাকার পরামর্শ দেয়। সেই পরামর্শ মেনে চলেছেন এই গবেষক।

এলিজাবেথ জানান, তিনি এখন সুস্থবোধ করছেন, বাইরেও যান। তবে গণজমায়েত এড়িয়ে চলেন তিনি। অন্যরা যাতে করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হয়ে পড়েন সেজন্যই তিনি নিজের গল্প বলেছেন।

এলিজাবেথ বলেন, ‘আপনার লক্ষণগুলো যদি প্রাণসংশয়ী না হয়, তাহলে স্রেফ বাসাায় থাকুন, ওষুধ সেবন করুন, প্রচুর পানি পান করুন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।’