Sponsored

আজহারের মৃত্যু পরোয়ানা কাশিমপুর কারাগারের পথে

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যু পরোয়ানা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের পথে রয়েছে। সোমবার দুপুরে হাইকোর্টের আপিল বিভাগ থেকে এ পরোয়ানা গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়।



কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেলার দেবদুলাল কর্মকার রাতে সমকালকে জানান, এ টি এম আজহারুল ইসলামের মৃত্যু পরোয়ানা হাইকোর্ট থেকে কারাগারের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে বলে শুনেছি। তবে পরোয়ানাটি এখনও এসে পৌঁছায়নি।


এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার সাইদ আহম্মেদ সাংবাদিকদের জানান, দুপুরে হাইকোর্ট থেকে লাল কাপড়ে মোড়ানো পরোয়ানাটি গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়। কারাগারে পৌঁছানোর পর এটি এ টি এম আজহারুল ইসলামকে পড়ে শোনানো হবে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ টি এম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন। জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলকে একই সঙ্গে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। গত বছরের ৩১ অক্টোবর তার সেই সাজা বহাল রাখেন আপিল বিভাগ।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম একাত্তরে ইসলামী ছাত্রসংঘের জেলা কমিটির সভাপতি ছিলেন। সে সময় তার নেতৃত্বেই বৃহত্তর রংপুর এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, নির্যাতন, বাড়িঘরে লুটপাট-অগ্নিসংযোগসহ বর্বরতা চালানো হয়। রায়ে তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে পাঁচটি এবং পরিকল্পনা-ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি (ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়) প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা চালিয়ে অন্তত ১৪০০ লোককে হত্যা ও নিজেই ১৪ জনকে খুনের অপরাধে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

ট্রাইব্যুনালের দেওয়া এ রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি ১১৩ যুক্তিতে খালাস চেয়ে ২ হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার আপিল করেন দণ্ডিত এই যুদ্ধাপরাধী। এরপর ২০১৭ সালের ১৩ আগস্ট এক আদেশে আপিল বিভাগ আসামিপক্ষকে সারসংক্ষেপ দাখিলের নির্দেশ দেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকার পর গত ১৮ জুন সর্বোচ্চ আদালতে এ মামলার শুনানি শুরু হয়ে ১০ জুলাই শেষ হয়।