Sponsored

তালা মেরেই দায়িত্ব শেষ, মরলে কার কী— লকডাউন বাসা থেকে যুবকের বার্তা

কোয়ারেন্টাইনঃ দিন-১

ব্যাপারটা নিয়ে সারাদিন অনেক জল ঘোলা হল। আমি–বাবা-মা মিলে শখানেক ফোন রিসিভ করে বিরক্ত, ফেসবুকে মানুষের মনগড়া স্ট্যাটাস দেখতে দেখতে ক্লান্ত। শেষ পর্যন্ত  তাই ভাবলাম সরকার আর কিছু বিবেচনাবোধহীন মানুষদের নিয়ে কিছু কথা লিখি। গতকাল রাত ১১.৪৫ মিনিট থেকে পুলিশ আমাদের বাসা লকডাউন করে দিয়েছে। কারন হল আমাদের  বাসার ৭ তলার বাসিন্দা (সাবেক অধ্যক্ষ, সরকারি মাদ্রাসা–ই–আলিয়া, ঢাকা)



গত বৃস্পতিবার থেকে ডেলটা মেডিকেলে কভিড সাস্পেক্ট হিসেবে আইসিউ-তে ভর্তি ছিলেন। কাল রাতে IEDCR থেকে টেস্টের ফল পাবার পর বোঝা গেল তিনি COVID-19-এ আক্রান্ত । এর পরেই পুলিশ  এসে বাসা লকডাঊন করে দিল। ভাবলাম সকালে হয়ত কোন পদক্ষেপ নিবে সরকার। সকাল হলো, কিন্তু কোন ভাল খবর তো আসেইনি বরং আঙ্কেলের মৃত্যু সংবাদ আসল। তিনি ২১.০৩.২০২০, রাত তিনটায় তার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর থেকেই বাসার বাইরে পঙ্গপালের মত উৎসুক জনতার ভীড় শুরু হয়। সময়, মোহনা, ডিবিসি, আরটিভিও ছিল কিন্তু কোন কারণবশত হয়তো তাদের নিউজ আপনারা টিভিতে দেখতে পারবেন না।


ভাইরাসটি ভদ্রলোকের (করোনা ভাইরাসে মৃত) মাঝে কী করে আসল সেটা এখনো খোলাসা হয়নি। আমার জানা মতে, তার বাসায় দেশের বাহির থেকে কোন অতিথিও আসেননি। সম্ভবত তিনি কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের শিকার। এই শিকার আমিও হতে পারি, আমার ষাটঊর্ধ্ব বাবা-মাও হতে পারেন, আপনিও পারেন। সুতরাং প্রতিকার থেকে প্রতিরোধ উত্তম এটি মেনে চলুন।



বিকালেই অফিসে একটা মেইল দিয়েছি ‘রিকোয়েস্ট ফর ওয়ার্কিং ফ্রম হোম’- এ বিস্তারিত লিখে। দেখা যাক কী বলে?

আমাদের বিন্ডিংয়ে যত বুয়া আছে কাউকেই পুলিশ ভেতরে ঢুকতে দেইনি। ভাল উদ্যোগ। বিকালে আমাদের বাসায় যিনি কাজ করেন সে ফোন করে বলেছে সে ও তার স্বামী গ্রামে চলে যাচ্ছে। যেহেতু তার কাজ বন্ধ আর তার স্বামী ঢাকায় মানুষ কমে যাবার কারনে রিকশা চালিয়ে তেমন আয় করতে পারছেনা। এই বুয়াও ওই ভদ্রলোকের বাসায় কাজ করত। এখন প্রশ্ন হল সে যদি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন এর শিকার হয়ে গ্রামে দিয়ে আরো দশ জনকে ইফেক্ট করে তাহলে?

IEDCR থেকে সময়মত টেস্টের ফলাফল না পাবার কারণে ওই সময়ে যেসব ডাক্তার– নার্স–কাছের মানুষজন ভদ্রলোকের পাশে ছিলেন সবাই তো এখন রিস্কে মাঝে পড়ে গেল। এরা সবাই তো এখন কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের আওতায় পড়ে। মাত্র কয়েকটা কেস হ্যাল্ডেল করতে সরকারের যা অবস্থা; আল্লাহ্ না করুক এটি যদি আরও ছড়িয়ে যায় তাহলে যে কী হবে তা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।



আমাদের ৩২টা পরিবারকে কোয়ারেন্টাইন করেই সরকার তার দায়িত্ব শেষ ভাবছে কিনা বুঝতে পারছি না। ভেবেছিলাম ৯ তলা বিল্ডিং হয়তো সরকার ডিসইনফেক্ট করার জন্য লোক পাঠাবে– কিন্তু পাঠায়নি (আমরা আমাদের সাধ্যমত ক্লিন করেছি)। সকাল থেকে অপেক্ষায় ছিলাম আমাদের রক্তের স্যাম্পল নিতে লোক আসবে– কিন্তু আসেনি। বিল্ডিং তালা মেরেই তাদের দায়িত্ব শেষ, মরলে আমরা মরব, কার কী? [ফেসবুকে লিখেছেন নাজমুস সাকিব খান, নর্থ টোলারবাগ, মিরপুর-১]