Sponsored

২০১৫ সালেই করোনা নিয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বিল গেটস


আগামী কয়েক দশকে কোন কারণে যদি লাখ লাখ মানুষ মারা যায়, তাহলে এর কারণটি অবশ্যই কোনো যুদ্ধ বা সংগ্রাম হবে না। মানুষ মারা পড়বে ভীষণ সংক্রামক কোনো ভাইরাসের সংক্রমণে। মানুষ কোনো মিসাইলের আঘাতে প্রাণ হারাবে না, মানুষ প্রাণ হারাবে ক্ষুদ্র জীবাণুতে। এক বক্তৃতায় এমনটাই বলেছিলেন বিল গেটস।


উৎপত্তিস্থল চীনে ব্যাপকভাবে কমলেও বিশ্বজুড়ে করোনার প্রকোপ বাড়ছেই। উন্নত চিকিৎসা পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও করোনার প্রকোপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বিশ্বের বড় দেশগুলো। বিল গেটসের পুরো বক্তব্যটি শুনে মনে হতে পারে, করোনাভাইরাসের কথা বুঝি তিনি পাঁচ বছর আগেই জানতেন! সেসময়ে তিনি প্রস্তুতির কথাও বলেছিলেন।

তার বক্তব্যে উঠে এসেছিলো ভাইরাস ও যুদ্ধের কথা। এই যুগে যুদ্ধ হবেনা বলে তার অভিমত ছিল তখনই। তবে একটি বিশ্বযুদ্ধে যত মানুষ মারা যান, তারচেয়েও বেশি আক্রান্ত হবেন ভাইরাসে। তিনি বলেছিলেন, ‘পারমাণবিক প্রতিরোধক তৈরিতে করলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছি আমরা; অথচ একটি মহামারি ঠেকানোর সিস্টেমের বেলায় সত্যিকার অর্থে আমাদের বিনিয়োগ সামান্যই। আমরা পরবর্তী মহামারির জন্য প্রস্তুত নই।’

‘নজরটা ইবোলার দিকেই দেয়া যাক। এটি একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল বিশ্বের জন্য। আমি নিশ্চিত, বিষয়টি খবরের কাগজ পড়ে আপনারা জেনেছেন। পোলিও নির্মূল করার জন্য আমরা যে বিশ্লেষণকারী টুল ব্যবহার করি, সেটা দিয়েই ইবোলার বিষয়টি খুব নিবিড়ভাবে খেয়াল করেছি আমি। কী দেখা গেল? যদি হত যে আমাদের একটি সিস্টেম ছিল, তবে ঠিকঠাক কাজ করেনি, তা কিন্তু নয়। সমস্যাটি হলো, আমাদের কোনো সিস্টেমই ছিল না। আদতে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার ওই সময়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু কর্তব্য আমরা পালন করিনি।’- TedX এর ওই বক্তৃতায় উল্লেখ করেন বিল গেটস।

Ebola আদতে কি এবং এর প্রকোপ কতটুকু ছড়াতে পারে সেসব দেখার মতো কোনো বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। সেসময় কাগজে কলমে প্রতিবেদন পেলেও অনেক দেরী হয়ে গিয়েছিলো। তাও ছিলো ভুলেভরা। সেই সময় চিকিৎসার জন্য হাত বাড়ানোর মতো কেউ ছিল না। রোগ নির্ণয় করার মতও কাউকে দেখা যায়নি। বিল গেটস এসবকে বৈশ্বিক ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেছেন তার বক্তৃতায়।

তিনি বলেন, ‘আমরা হয়ত এমন একটা ভাইরাসে আক্রান্ত হব, যার ফলে বিমানে চড়ার সময় কিছুই টের পাব না। বাজারে যাওয়ার সময় হয়তো শরীর ঠিকঠাক থাকবে। ভাইরাসটির উৎস হতে পারে ইবোলার মত কোনো প্রাকৃতিক মহামারি কিংবা তা জৈব সন্ত্রাসবাদের (বায়োটেরোরিজম) কারণেও হতে পারে। অর্থাৎ দুনিয়ায় এমন অনেক কিছুই আছে, যার ফলে পরিস্থিতি আক্ষরিক অর্থেই লক্ষগুন খারাপ হতে পারে।’