Sponsored

ধর্ষণ এবং খুনের পর লাশ গাছে ঝুলিয়ে ফজরের নামাজ পড়ালেন মুয়াজ্জিন

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে তাকমিনা (২০) নামে এক যুবতীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত তাকমিনা পাড়াভরট গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে।

নিহত তাকমিনার সাথে প্রেমের স'ম্পর্ক ছিল মো. আশিকুল নামে এক মুয়াজ্জিনের সাথে। আশিকুল স্থানীয় আঠারদানা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন ও পাড়াভরট গ্রামের জামিয়া আরাবিয়া কাসেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসার ছাত্র।
আশিকুল ২৩ মার্চ দিবাগত রাত তিনটার দিকে তাকমিনাকে মোবাইল ফোনে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে নিয়ে আসে। কৌশলে সেখানে তাকমিনাকে ধর্ষণ করে আশিকুল ও সেখানে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা তার দুই। পরে তিন জন মিলে তাকমিনার হাত পা মুখ বেধে ফেলে। এরপর আশিকুল তার মাথার পাগড়ী দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে মেয়েটাকে খুন করে। পরে টেনে হিচড়ে তাকমিনার লাশ একটি জাম গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।
এর কিছুক্ষণ পর ফজরের আজান দেয়ার সময় হলে আশিকুল মসজিদে গিয়ে ফজরের আজান দেয়। ওই দিন মসজিদের ইমাম না আসার কারনে ফজরের নামাজে ইমামতি করেন আশিকুল। এ সময় তার দুই বন্ধুও তার পিছনে নামাজ পড়েন।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর তাকমিনার লাশ গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়। তাকমিনার লাশ গাছে ঝুলানো থাকলেও পা মাটিতে লেগে ছিল। পাশেই পড়েছিল তাকমিনার মোবাইল।
মুসল্লিরা লাশটি দেখতে পেয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলাম রিয়েলকে জানায়। পরে রিয়েল গফরগাঁও থানায় খবর দিলে পুলিশ গিয়ে লাশ উ'দ্ধার।
তাকমিনার ছোট বোন সুমাইয়া বলেন, "তাকমিনা রাতে আমার সঙ্গেই ঘুমিয়েছিল। সে কখন উঠে চলে যায় আমি টের পাইনি। তবে, তাকমিনা গোপনে মোবাইল ব্যবহার করতো। সেই মোবাইল ফোনটি হয়তো আশিকুলের দেয়া হতে পারে।"
ওই দিন বিকালে তাকমিনার বাবা আব্দুল মতিন বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।