Categories
Featured Interesting Worldwide

পৃথিবী সম্পর্কে কিছু অজানা ও বিস্ময়কর তথ্য!

সৌরজগতে প্রাণধারণের উপযোগী একমাত্র গ্রহ আমাদের বাসস্থান পৃথিবী সম্পর্কে মজার কিছু তথ্য জানাবো আমাদের এই প্রতিবেদনে।

সৌরজগতের প্রায় সকল গ্রহ-উপগ্রহের নামকরন করা হয়েছে কোনো না কোনো রোমান বা গ্রীক দেব-দেবীর নামে। যেমন, শুক্র গ্রহের নামকরন করা হয়েছে গ্রীক সৌন্দর্য ও ভালোবাসার দেবী ভেনাসের নামে। রোমান যুদ্ধের দেবতা মার্সের নামে রাখা হয়েছে মঙ্গল গ্রহের নাম। শুধুমাত্র আমাদের নিজ গ্রহ পৃথিবীর নামকরন কোনো দেব-দেবীর নামে করা হয়নি।

পৃথিবীর বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর হলেও আমরা একে ‘আর্থ’ বা পৃথিবী নামে ডাকা শুরু করেছি মাত্র ১০০০ বছর আগে থেকে। প্রচলিত প্রায় সকল ভাষাতেই ‘পৃথিবী’ শব্দটি মাটি বা ভূমির সমার্থক শব্দ।

সূর্য থেকে গ্রহ গুলোর দুরত্ব বিচারে পৃথিবী সৌরজগতের তৃতীয় গ্রহ। পৃথিবীর আকার সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের তুলনায় বেশ ছোট। জুপিটার বা বৃহস্পতি গ্রহ পৃথিবী থেকে প্রায় এক হাজার গুণ বড়।

আমরা পৃথিবী থেকে যেমন চন্দ্রোদয় বা চন্দ্রাস্ত দেখি, ঠিক একইরকম ভাবে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে পৃথিবী-উদয় এবং পৃথিবী-অস্ত দেখা যায়। এ্যপোলো-৮ এর নভোচারীরা চাঁদকে প্রদক্ষিণ করার সময় সর্বপ্রথম পৃথিবী-উদয়ের এক অপার্থিব দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করেন।

পৃথিবী প্রতি সেকেন্ডে ২৯ কিলোমিটার বেগে সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। এই গতিতে গাড়ি চালিয়ে ঢাকা থেকে জাপানের টোকিও শহরে যেতে সময় লাগবে মাত্র ২ মিনিট।

নভোচারীরা প্রথমবার মহাশূন্য থেকে পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে এর নাম দেয় ‘ব্লু প্লানেট’, বা ‘নীল গ্রহ’। আমাদের পৃথিবীর ৭০ ভাগ অংশ পানি দ্বারা পরিবেষ্টিত। আর তাই মহাশূন্য থেকে পৃথিবীকে নীল দেখায়।

প্রায় ৩০ কোটি বছর আছে পৃথিবীর সকল স্থলভাগ একসাথে এক বিরাট মহাদেশ আকারে ছিলো। আর ছিলো একটিমাত্র অতিকায় মহাসাগর। তখনকার সেই একক মহাদেশকে বলা হয় ‘প্যানজিয়া’। আর সেই বিশাল মহাসাগরকে বলা হয় ‘প্যানথ্যালাসা’। সময়ের বিবর্তনে পৃথিবীর স্থলভাগ পৃথক হয়ে তৈরী করেছে সাতটি মহাদেশ ও পাঁচটি মহাসাগর।

প্রায় ২৩ কোটি বছর আছে আমাদের পৃথিবীতে বাস করতো প্রায় ৭০০ টি ভিন্ন প্রজাতির ডায়নোসর। আপনি যদি বর্তমান পৃথিবী বা নিজের জীবনের উপর হতাশ হয়ে, কিংবা ডিপ্রেশনে পরে টাইম ট্রাভেল করে ডায়নোসরদের সময়ে ফিরে যেতে চান তবে অবশ্যই স্পেসস্যুট পরে যেতে ভুলবেন না। কারন তখনকার পৃথিবীর আবহাওয়া ও জলবায়ু মোটেও এখনকার মতো ছিলো না। সেসময় বাতাসে যে পরিমান অক্সিজেন ছিলো, তাকে আসলে নাই বললেও চলে।

আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের একাধিক উপগ্রহ থাকলেও, শুধু পৃথিবীরই একটি মাত্র উপগ্রহ আছে। কিন্তু আসলেই কি পৃথিবীর উপগ্রহ একটি? পৃথিবীর সহ-কক্ষপথে দু’টি এ্যস্ট্রয়েড বা গ্রহাণু পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। তারা কখনো পৃথিবীর খুব কাছে আসে, আবার কখনো পৃথিবী থেকে অনেক দূরে সরে যায়। এরা আকারে অনেক ছোট হওয়ার কারনে আমরা এদেরকে খালি চোখে দেখতে পাই না। এই দু’টি গ্রহাণু আমাদের পৃথিবীর উপগ্রহ না হলেও এদেরকে চাঁদের ছোটভাই বলাই যায়।

Categories
Featured Religion Worldwide

মসজিদ-আল-হারাম : মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র স্থান !

পবিত্র ‘কাবা শরীফ’ -এর চারদিকে যে মসজিদটি রয়েছে সেটি মসজিদ-আল-হারাম নামে পরিচিত। প্রতিবছর হজ্বের মৌসুমে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব সমাবেশ ঘটে সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত এই মসজিদটিতে। ইসলাম ধর্মের সর্বাধিক পবিত্র স্থান মসজিদ-আল-হারাম সম্পর্কে জানাবো আমাদের আজকের প্রতিবেদনে।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী পৃথিবীর প্রথম ইবাদতের স্থান পবিত্র কাবা। এখনো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৬০ কোটি মুসলিম কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। হজ্ব ও ওমরা পালনের জন্যও কাবাকে প্রদক্ষিণ করতে হয়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে কাবাকে প্রদক্ষিণ করা কখনই থেমে থাকে না। এই মুহূর্তেও কেউ না কেউ কাবাকে প্রদক্ষিণ করছে। এমনকি অতীতে বন্যার সময়ও মানুষ সাঁতার কেটে কাবাকে প্রদক্ষিণ করেছে।

ধারণা করা হয় খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ২১৩০ সালের দিকে কাবা নির্মাণ করা হয়। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত আছে, মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ) একত্রে কাবা নির্মাণ করেন। পূর্বে কাবা -কে কেন্দ্র করে একটি খোলা স্থানই ছিল মসজিদ। বিভিন্ন সময়ে একটু একটু করে মসজিদ-আল-হারামের নির্মাণ কাজ হয়। ৬৯২ সালে প্রথম ছাদ সহ দেয়াল দিয়ে মসজিদটি ঘিরে দেয়া হয়। ১৫৭০ সালে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় সেলিমের আমলে সমতল ছাদের বদলে ক্যালিগ্রাফি সম্বলিত গম্বুজ ও নতুন স্তম্ভ স্থাপন করা হয়। ১৯৫৫ থেকে ১৯৭৩ সালের মধ্যে সাফা ও মারওয়া -কে মসজিদের দালানের মধ্যে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে মসজিদ-আল-হারামের মোট আয়তন ৩ লক্ষ ৫৬ হাজার ৮০০ বর্গমিটার বা ৮৮.২ একর। এ মসজিদের ৮১ টি দরজার প্রত্যেকটি সব সময় খোলা থাকে।

বাদশাহ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজ মসজিদের ধারন ক্ষমতা বিশ লক্ষে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহন করেন। সেজন্য ২০০৭ সালে মসজিদ-আল-হারাম এর সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়, যা ২০২১ সাল নাগাদ শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালে বাদশাহ মারা যাওয়ার পর তার উত্তরসূরি সালমান বিন আবদুল আজিজ এই সম্প্রসারণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এই সম্প্রসারণ কাজে ব্যবহৃত একটি ক্রেন ভেঙে পরায় ১১১ জন মারা যান।

১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে কিছু চরমপন্থি মসজিদ-আল-হারাম দখল করে নেয়। তাদের এই আক্রমন ছিলো মূলত সৌদি আরবের রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। বিদ্রোহীরা ঘোষণা করে, ‘ইমাম মাহাদি’ তাদের প্রধান নেতা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ আল কাহতানী’র বেশে চলে এসেছেন। তারা পৃথিবী জুড়ে সকল মুসলিমদের আহবান জানায় এই নেতার নির্দেশ মেনে চলার জন্য। এর পরবর্তী দুই সপ্তাহ যাবৎ তিনজন ফ্রেঞ্চ কমান্ডোর তত্ত্বাবধানে সৌদি আরব সেনাবাহিনী মসজিদ-আল-হারাম পুনর্দখলের জন্য যুদ্ধ চালিয়ে যায়। ঘটনার সময় চরমপন্থিরা পবিত্র হজ্ব পালনরত কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমানকে আটক করে রাখে। এই ঘটনায় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব স্তিমিত হয়ে যায়। মসজিদটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে শতশত জঙ্গি, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও নিরীহ মুসলিম নিহত হয়। টানা দুই সপ্তাহ যুদ্ধ শেষে অবশেষে মসজিদ-আল-হারাম জঙ্গিমুক্ত হয়।

বৃটেনের বিখ্যাত আবাসন কোম্পানি ‘হোমস এ্যন্ড প্রোপার্টি’ -এর সাম্প্রতিক তথ্য মতে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ও দামী সম্পদ গুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মসজিদ-আল-হারাম। মুসলিমদের কাছে অমূল্য সম্পদ এ মসজিদটির নির্মাণ ব্যয় প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার।

Categories
Featured Religion Worldwide

জমজম কূপ : মহান আল্লাহ্’র কুদরতের এক বাস্তবিক নিদর্শন !

হাজার হাজার বছর আগে শুরু হওয়া পবিত্র জমজম কূপের পানি বিপুলসংখ্যক মানুষ প্রতিদিন ব্যবহার করছে। মুসলমানদের কাছে জমজমের পানি অত্যন্ত বরকতময় ও পবিত্র। বৈজ্ঞানিকভাবেও জমজমের পানি পৃথিবীর সবচেয়ে বিশুদ্ধ পানি হিসেবে স্বীকৃত। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববী থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ গ্লাস জমজমের পানি পান করা হয়।

আমাদের এই প্রতিবেদনে জানাবো পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা পানির উৎস জমজম কূপ সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য।

পবিত্র কাবা ঘর থেকে মাত্র ২১ মিটার দূরত্বে অবস্থিত আল্লাহ্’র কুদরতের বাস্তব নিদর্শন জমজম কূপ। কাবা ঘরের সামনে ‘হাজরে আসওয়াদ’ ও ‘মাকামে ইব্রাহীম’ -এর মাঝ বরাবর রয়েছে জমজম কূপ। বর্তমানে জমজম কূপটি মসজিদুল-হারামের অভ্যন্তরে অবস্থিত। হাদিসে এই পানির অশেষ কল্যাণ ও বরকতের কথা উল্লেখ রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এক হাদিস মতে, “ভূপৃষ্ঠের সবচেয়ে উৎকৃষ্ট ও কল্যাণকর পানি জমজম কূপের পানি। এই পানি ক্ষুধার্তের জন্য খাদ্য ও রোগের জন্য পথ্য।” (ইবনে মাজাহ্)

জমজম কূপের পানির এই বিশেষত্ব বর্তমানে বিজ্ঞান দ্বারাও সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত। জমজমের পানি পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা পানি। শুধু তাই নয়, এর সমমান সম্পন্ন পানি পৃথিবীতে আর দ্বিতীয় কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাধারণত যেকোনো কূপের পানি দীর্ঘদিন আবদ্ধ থাকার ফলে তার রং ও স্বাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু হাজার হাজার বছর পার হয়ে যাওয়ার পরেও জমজমের পানি রয়েছে সম্পূর্ণ অবিকৃত। এর রং, স্বাদ ও বিশুদ্ধতায় সামান্যতম কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই পানিতে কোন জীবানু, শৈবাল, ছত্রাক বা পানি দূষণকারী কোন ধরনের বস্তু টিকতে পারেনা। কোন নদী বা জলাশয়ের সঙ্গে এই কূপের কোন সংযোগ নেই। অথচ প্রতিমুহূর্তে লাখ লাখ মানুষ এই পানি ব্যবহার করছে ;আবার অনেকেই সাথে করে নিয়েও যাচ্ছে। তবুও জমজম কূপ কখনো শুকিয়ে যাবে না এবং এর পানি কখনো নষ্টও হবে না।

আজ থেকে প্রায় চার হাজার বছর আগে ইব্রাহীম (আ) তার প্রিয়তমা স্ত্রী হাজেরা ও আদরের পুত্র ইসমাইলকে মক্কার বিরাণ পাহাড়ি এলাকায় নির্বাসনে রেখে আসেন। এই নির্বাসন ছিল আল্লাহ্’র আদেশ মোতাবেক সবচেয়ে প্রিয় কোন কিছুর কোরবানি। এক মশক পানি ও এক থলে খেঁজুর সহ তাদেরকে বিরাণ মরুভূমিতে রেখে তিনি আল্লাহ্’র উপর ভরসা করেন। ফলে মক্কার বালুময় প্রান্তরে একাকী বসবাস করতে থাকেন মা হাজেরা ও তার শিশু ইসমাইল। তাদের স্বল্প রসদ অতি দ্রুতই ফুরিয়ে যায়। একদিন নিদারুণ পিপাসায় শিশু পুত্র ইসমাঈলকে খোলা প্রান্তরে রেখে মা হাজেরা সাফা-মারওয়া পাহাড়ে ছোটাছুটি করতে থাকেন। সাতবার তিনি এদিক থেকে ওদিক ছুটে বেড়ান। এক পর্যায়ে আল্লাহ্’র হুকুমে হজরত জিবরাইল (আ) মরুভূমির ভেতর থেকে পানির ঝরণা প্রবাহিত করে দেন। মা হাজেরা পুত্র ইসমাঈল (আ) -এর কাছে এসে দেখলেন এক অভূতপূর্ব ঘটনা। শিশু পুত্র ইসমাঈলের পায়ের আঘাতে শুকনো জমিতে তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানির স্রোত। তখন মা হাজেরা পানির চারদিকে বালির বাঁধ দিয়ে বললেন, ‘জামজাম’ ;অর্থাৎ থেমে যাও। সেই থেকে এখনো পর্যন্ত জমজম কূপ বহাল রয়েছে, এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে বলে মুসলমানদের দৃঢ় বিশ্বাস।

জমজম কূপের গভীরতা মাত্র ১০১ ফুট। কূপের পানির স্তর মাটি থেকে প্রায় সাড়ে দশ ফুট নিচে অবস্থিত। দু’টি বিশাল আকারের পানির পাম্পের সাহায্যে প্রতি সেকেন্ডে ১১০০ লিটার থেকে ১৮৫০ লিটার পর্যন্ত পানি উত্তোলন করা হয়। পানি উত্তোলন করার পর এর স্তর ৪৪ ফুট নিচে নেমে যায়। কিন্তু পানি উঠানো বন্ধ করার মাত্র ১১ মিনিট পরেই আবারো পানির স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে আসে। জমজমের পানির চাহিদা জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকায়, পানি সরবরাহে সৌদি কর্তৃপক্ষ রীতিমতো হিমশিম খায়। তাই ২০১০ সালে মক্কার কাদাই এলাকায় জমজমের পানি সরবরাহের জন্য বিশাল এক প্রকল্প তৈরি করা হয়। সৌদি আরব সহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে জমজমের পানি পৌঁছে দেয়ার জন্য এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমজমের পানি বোতলজাত করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন সরবরাহ করা হয় এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার লিটার জমজমের পানি। কিন্তু হজ্বের মৌসুমে এই পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় দৈনিক চার লক্ষ লিটারে। এই প্রকল্প থেকে প্রতিদিন ১০ লিটারের প্রায় ১৫ লক্ষ বোতল জমজম পানি সংরক্ষণ করা হয়। এখান থেকে পরবর্তীতে বিশেষ ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে মদিনার মসজিদে নববী সহ সৌদি আরবের অন্যান্য স্থানে পৌঁছে দেয়া হয় জমজমের পানি। কিছু কিছু স্থানে জমজমের পানি শীতলীকরণ করেও পরিবেশন করা হয়। মুসল্লি ও দর্শনার্থীরা যাতে নিজেদের প্রয়োজনে জমজমের পানি নিয়ে যেতে পারে, সেজন্যও রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। এছাড়া মক্কা ও মদিনার দুই মসজিদের মুসল্লিদের সুবিধার্থে বহু স্বেচ্ছাসেবক জমজমের পানি পিঠে বহন করে সরাসরি পরিবেশন করে থাকে। সেই সাথে বিভিন্ন ছোট ছোট বোতলজাতকৃত পানিও সরবরাহ করা হয়। সৌদি আরবসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে বাণিজ্যিকভাবে জমজমের পানি মজুদ ও কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। দুই পবিত্র মসজিদের অসংখ্য কর্মী সাধারণ মানুষের কাছে জমজমের পানি পৌঁছে দেওয়া ও এর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

জমজমের পানি নিয়ে এখনো পর্যন্ত বহু গবেষণা হয়েছে এবং হচ্ছে। সৌদি আরবে জিওলজিক্যাল সার্ভের অধীনে ‘জমজম স্টাডিজ এন্ড রিসার্চ সেন্টার’ নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সাধারণ পানির তুলনায় জমজমের পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম সল্ট এর পরিমান বেশি। যা ক্লান্তি দূর করতে অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা রাখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, জমজমের পানি মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য শক্তিবর্ধক হিসেবে কাজ করে। সম্প্রতি ‘মাসারু এমাটো’ নামের জাপানি এক পানি গবেষক জমজমের পানি গবেষণা করে বলেছেন, জমজমের এক ফোঁটা পানির যে নিজস্ব খনিজ গুনাগুন আছে তা পৃথিবীর অন্য কোন পানিতে নেই। তার গবেষণায় আরো দেখা যায়, পৃথিবীর সাধারণ পানির তুলনায় জমজমের পানি এক হাজার গুণ বিশুদ্ধ। আর তাই এক হাজার ফোঁটা সাধারন পানির সাথে যদি এক ফোঁটা জমজমের পানি মেশানো হয়, তাহলে সেই সাধারণ পানিও জমজমের পানির মতো বিশুদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাৎ সাধারণ যে কোন পানির সাথে জমজমের পানি মেশালে, সেই পানিও জমজমের পানির গুনাগুন অর্জন করে। বিশ্বের অন্য কোন পানিতে এ ধরনের আচরণ লক্ষ করা যায় না।

পবিত্র কাবা শরীফ এর চারদিকে যে মসজিদটি রয়েছে সেটি ‘মসজিদ-আল-হারাম’ নামে পরিচিত। সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত এই মসজিদটিতে প্রতিবছর হজ্বের মৌসুমে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মানব সমাবেশ ঘটে। ইসলাম ধর্মের সর্বাধিক পবিত্র স্থান মসজিদ আল হারাম সম্পর্কে জানাবো আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।

Categories
Featured Religion

পৃথিবীর কেন্দ্র পবিত্র ‘কাবা শরীফ’ !

সৌদি আরবের মক্কায় অবস্থিত ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থান ‘মসজিদুল হারাম’। এই মসজিদের কেন্দ্রে রয়েছে পবিত্র কাবা শরীফ। মুসলিমরা কাবার উপাসনা করে না, তারা উপাসনা করে এক ঈশ্বর আল্লাহ্’র। আর কাবা সেই বিশ্বাসেরই প্রতিনিধিত্ব করে। বিশ্বব্যাপী মুসলিমরা প্রতিদিন পাঁচবার এই ঘরের দিকে ফিরে প্রার্থনা করেন।

আমাদের এই প্রতিবেদনে জানাবো পবিত্র কাবা ঘর সম্পর্কে কিছু অজানা ও বিস্ময়কর তথ্য।

পৃথিবীর প্রথম ইবাদতের স্থান কাবা শরীফ। পবিত্র কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী মুসলিম জাতির পিতা ইব্রাহিম (আ) ও তার পুত্র ইসমাঈল (আ) একত্রে কাবা নির্মাণ করেন। ইসলাম ধর্ম শুরু হওয়ার বহু আগে থেকে কাবা -কে কেন্দ্র করে একটি নির্দিষ্ট এলাকা ছিল অত্যন্ত পবিত্র ও নিরাপদ স্থান। এখানে শিকার করা, গাছ কাকা, মারামারি করা, বা মানুষ হত্যার মত কাজ ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই এই মসজিদকে বলা হয় মসজিদ-আল-হারাম। আরবি ভাষায় ‘হারাম’ শব্দটির একাধিক অর্থ রয়েছে। হারামের একটি অর্থ নিষিদ্ধ, আরেকটি অর্থ পবিত্র। তবে মসজিদ আল হারাম শব্দের নিষিদ্ধ বা পবিত্র ছাড়াও আরো কোন অন্তর্নিহিত অর্থ থাকতে পারে।

হযরত ইবরাহীম (আ) ও ইসমাইল (আ) কাবা ঘর নির্মাণ সম্পন্ন করার পর একটি পাথর বসানোর জায়গা থাকা ছিল। ইবরাহীম (আ) তার পুত্রকে পাঠান এখানে বসানোর মত একটি পাথর খুঁজে আনতে। তখন আল্লাহ্’র আদেশে ফেরেশতা জিব্রাইল (আ) জান্নাত থেকে একটি পাথর নিয়ে আসেন। বলা হয়ে থাকে, পাথরটি যখন পৃথিবীতে এসেছিল তখন এর রং ছিল সম্পূর্ণ সাদা। কিন্তু দিনে দিনে মানুষের পাপ শুঁষে নিয়ে পাথরটি কালো রং ধারণ করেছে। কাবা শরীফের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে অবস্থিত এই পাথরের নাম ‘হাজরে আসওয়াদ’।

কাবা ঘর বহুবার পুনঃনির্মাণ ওর সংস্কার করা হয়েছে। তবে হযরত মুহাম্মদ (সা) নবুয়্যত প্রাপ্তির কয়েক বছর আগে কাবার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। প্রায় ১০০ বছর পরপর কাবা ঘরের বেশ কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালের কাবা ঘরের ভিত্তি আগের চেয়ে মজবুত করা হয়। সেই সাথে নতুন ছাদ স্থাপন করা হয় এবং বেশকিছু পাথর পরিবর্তন করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে আগামী কয়েক শত বছরে কাবাঘরে আর নতুন করে কোন সংস্কারের দরকার হবে না। বর্তমানে কাবা শরীফের উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট ;এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৪০ ফুট ও প্রস্থ ৩৫ ফুট। আতীতে কাবা ঘরে দুইটি দরজা ও একটি জানালা ছিল। একটি দরজা এর ভেতরে প্রবেশ করার জন্য, আরেকটি ভেতর থেকে বাইরে বের হওয়ার জন্য ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে শুধু একটি দরজা রয়েছে এবং কোন জানালা নেই। কাবা ঘরের চারটি কোন কম্পাশের চারটি কাঁটা বরাবর রয়েছে। কাবা শুধু মুসলিমদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুই নয়, ভৌগোলিকভাবেও কাবাঘর পৃথিবীর কেন্দ্রে অবস্থিত।

পৃথিবীর ১৮০ কোটি মুসলিম প্রতিদিন পাঁচবার পবিত্র কাবার দিকে মুখ করে নামাজ আদায় করে। হজ্জ্ব ও ওমরার সময় মুসলিমরা কাবার চারপাশে ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাত বার প্রদক্ষিণ করে। যা ‘তাওয়াফ’ নামে পরিচিত। যে জায়গা জুড়ে তাওয়াফ করা হয় তাকে বলে ‘মাতাফ’। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, কাবাকে প্রদক্ষিণ করা কখনই থেমে থাকে না। এই মুহূর্তেও কেউ না কেউ তাওয়াফ করছে। এমনকি অতীতে বন্যার সময়ও মানুষ সাঁতার কেটে কাবাকে প্রদক্ষিণ করেছে।

বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের বিস্তারের কারণে সৌদি আরব ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাইরের দেশ থেকে ওমরা পালন করতে আসার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এরপর ৫ মার্চ পূর্ণাঙ্গ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার জন্য মক্কা ও মদিনার দুই পবিত্র মসজিদ মুসল্লিদের জন্য বন্ধ করা হয়। তারপরের দিন মসজিদ ও মাতাফ আবারও খুলে দেয়া হলেও মার্চের মাঝামাঝি কাবা শরীফে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুম্মার নামাজ এবং তাওয়াফ করার ব্যাপারেও আসে নিষেধাজ্ঞা। বাইরে থেকে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ না থাকলেও কাবাঘর এবং মসজিদুল হারামের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও খাদেমরা মিলে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে জামাতের সাথে নামাজ আদায় করতে থাকেন। তবে করোনা ভাইরাসের কারনেও কাবাকে প্রদক্ষিণ করা একেবারে থেমে নেই। এসময় সৌভাগ্যবান কিছু মুসলিম তাওয়াফ করার সুযোগ পায়। মসজিদুল হারামের ভেতর ও ছাদের উপর দিয়ে সীমিত সংখ্যক লোক কাবাকে প্রদক্ষিণ করতে থাকেন। কাবা শরীফে মানুষের পদচারণা কমে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই দেখা যায় আশ্চর্য এক ঘটনা। এক ঝাঁক পাখি কাবা ঘরের চারদিকে তাওয়াফ করতে থাকে। উপস্থিত কেউ একজন তা স্মার্টফোনে ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করলে, ভিডিওটি ইন্টারনেটে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

কাবা শরীফের গুরুত্বপূর্ণ অলংকার এর উপরের কালো পর্দা, যার নাম ‘কিসওয়া’। অনেকে একে কাবা শরীফের গিলাফ নামেও চেনে। মুসলিম বিশ্বের সেরা ক্যালিগ্রাফার এবং শিল্পীরা মূল্যবান এই আবরণ তৈরি করেন। রেশমের তৈরি কালো কাপড়ের উপর সোনা ও রুপার সুতা দিয়ে লেখা হয় পবিত্র কুরআনের আয়াত। এই গিলাফ তৈরি করতে ৬৭০ কেজি রেশম এবং ১৫ কেজি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। এই সিল্ক আসে ইতালি থেকে, এবং সোনা ও রুপার প্রলেপ দেওয়া সুতা আসে জার্মানি থেকে। আধ্যাত্মিক বিচারে কিসওয়া অবশ্যই অমূল্য, কিন্তু এর বাজার মূল্য হিসাব করতে গেলে একটি কিসওয়া তৈরি করতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ হয়। কাবা শরীফের গিলাফ কালো ছাড়া অন্য কোন রং আমরা কল্পনাই করতে পারি না। কিন্তু অতীতে সবুজ, লাল এবং সাদা রঙের গিলাফ ব্যবহার করা হতো। আব্বাসীয় খিলাফতের সময় থেকে কালো রংয়ের গিলাফের প্রচলন শুরু হয়। অতীতে একটি গিলাফের উপর আরেকটি নতুন গিলাফ বসানো হতো। একসাথে বহু গিলাফের ওজনের কারণে কাবা ঘরের উপর প্রচুর চাপ পরতো। তাই পরবর্তীতে শুধুমাত্র একটি গিলাফ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিবছর হজ্জ্বের মৌসুমে আরাফার দিনে গিলাফ পরিবর্তন করা হয়। এবং পুরনো গিলাফ ছোট ছোট অংশে কেটে বিভিন্ন জাদুঘর এবং বিশিষ্টজনদের উপহার হিসেবে পাঠানো হয়।

কাবা ঘরের ভেতরে কি আছে তা নিয়ে রয়েছে বহু জল্পনা-কল্পনা। অতীতে প্রতি সপ্তাহে দুইবার সকলের জন্য কাবাঘর খুলে দেয়া হতো। কিন্তু দিনে দিনে আগত মুসল্লির সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায়, বর্তমানে বছরে মাত্র দুইবার কাবার দরজা খোলা হয় ;এবং কতিপয় সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা এর ভেতরে প্রবেশ করেন। কাবা ঘরের দরজা খোলার দিন লক্ষ লক্ষ মুসলিম এর সামনে ভিড় করে এক ঝলক দেখার জন্য। কাবা ঘরের ভেতরে রয়েছে ছাদকে ধরে রাখার জন্য তিনটি স্তম্ভ। এর মাঝ বরাবর একটি টেবিল এবং সোনা ও রুপার তৈরি কিছু প্রদীপ ঝুলানো আছে। ভেতর থেকে কাবা ঘরের ছাদের উপরের দিকটা কুরআনের আয়াত সম্বলিত সবুজ কাপড় দিয়ে মোড়া। কাবা শরীফের ছাদে ওঠার জন্য এর ভেতরে আরও একটি দরজা আছে। কাবার ভেতরে প্রায় ৫০ জন লোক নামাজ আদায় করতে পারবে। এটিই পৃথিবীর একমাত্র ঘর, যেখানে আপনি যেদিকে খুশি সেদিকে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতে পারবেন।

ইসলাম প্রচারিত হওয়ার আগে থেকে কুরাইশ গোত্রের একাধিক পরিবার কাবা শরীফের দেখভাল করত। কিন্তু সকল পরিবার তাদের নিয়ন্ত্রণ হারালেও শুধুমাত্র ‘বনি সাইবা’ পরিবার তাদের কর্তৃত্ব বজায় রাখে। মক্কা বিজয়ের পর মহানবী (সা) কাবা শরীফের চাবি বনি সাইবা গোত্রের উসমান বিন তালহা (রা) -এর কাছে অর্পণ করেন। এখনো কাবা ঘরের চাবি এই পরিবারের কাছেই আছে, এবং মহানবী (সা) -এর সালামের নির্দেশ অনুযায়ী কেয়ামত পর্যন্ত চাবিটি তাদের কাছেই থাকবে।

পবিত্র কাবা ঘর থেকে মাত্র ২১ মিটার দূরত্বে অবস্থিত আল্লাহর কুদরতের বাস্তব নিদর্শন ‘জমজম কূপ’। জমজমের এক ফোঁটা পানির যে খনিজ গুনাগুন আছে, তা পৃথিবীর অন্য কোন পানিতে নেই। ল্যাবরেটরীতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, পৃথিবীর সাধারণ পানির তুলনায় জমজমের পানি এক হাজার গুন বেশি বিশুদ্ধ। পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা পানির উৎস জমজম কূপ সম্পর্কে জানাবো আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদনে।

Categories
Featured Religion Worldwide

মসজিদে নববী : ইসলামের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান

ইসলাম ধর্মের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পবিত্র স্থান ‘মসজিদে নববী’। ‘মসজিদ আল-হারাম’ -এর পরেই মসজিদে নববী’র অবস্থান। মসজিদে নববী শুধু উপাসনার জায়গা নয়। এটি একাধারে সম্মেলন কেন্দ্র, বিচারালয় এবং ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। প্রতি বছর হজ্জ্ব এর আগে বা পরে সারা বিশ্বের লক্ষ লক্ষ মুসলিম এই মসজিদে ইবাদত করতে আসে।

আমাদের এই প্রতিবেদনে জানাবো ইসলামের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মসজিদ ‘মসজিদে নববী’ সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মক্কা ছেড়ে মদীনায় আসার পর মসজিদে নববী নির্মাণ করেন। মহানবী (সাঃ) নিজে এই মসজিদ নির্মাণের জন্য শারীরিক শ্রম দিয়েছেন। সর্বপ্রথম মসজিদে নববী’র দৈর্ঘ্য ছিল ১১৭ ফুট, এবং প্রস্থ ছিল ১০০ ফুট। তখন মসজিদের খুঁটি নির্মাণ করা হয়েছিল খেঁজুর গাছের কাণ্ড নিয়ে। এর ছাদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল খেঁজুর গাছের পাতা ও কাঁদার আস্তরণ। এবং মেঝেতে বিছানো ছিল মরুভূমির বালি। খায়বারের যুদ্ধের পর মুসলিমদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে, মসজিদের সম্প্রসারণ করা হয়। তখন মসজিদের সবদিকে ১৫৫ ফুট করে সীমানা বৃদ্ধি পায়। ইসলামের প্রথম খলিফা হযরত আবু বকর (রা) -এর শাসন আমল পর্যন্ত মসজিদের সেই আকার অপরিবর্তিত ছিল। এরপর দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর (রা) মসজিদের সীমানা বৃদ্ধি করেন, এবং মসজিদের মেঝেতে পাথর বিছান। তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা) নতুন করে মসজিদটি নির্মান করেন। তিনি খেঁজুর গাছের কান্ডের বদলে লোহা ও পাথর দিয়ে মসজিদের খুঁটি স্থাপন করেন। এবং ছাদ নির্মাণ করতে সেগুন কাঠ ব্যবহার করেছেন। এরপর উমাইয়া, আব্বাসীয়, উসমানীয় এবং সর্বশেষ সৌদি রাজপরিবারের শাসনামলে বহু ধাপে মসজিদের সীমানা সম্প্রসারণ এবং মসজিদের কাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে।

মসজিদে নববীর একটি প্রতীকী অংশ হলো ‘সবুজ গম্বুজ’। এই জায়গাটি ছিল হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর বাসগৃহ। বর্তমানে মসজিদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত এই গম্বুজ এর নিচে রয়েছে মহানবী (সাঃ) -এর রওজা বা সমাধি। নবীজি (সাঃ) -এর সমাধির পাশে তাঁর ঘনিষ্ঠ দুই সহচর হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর এর সমাধিও রয়েছে। এবং তাদের পাশে আরও একটি সমাধির জায়গা খালি রাখা হয়েছে। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী হযরত ঈসা (আ) আবারো পৃথিবীতে ফিরে আসবেন, এবং তিনি পুনরায় মারা যাবার পর তাকে এখানে সমাহিত করা হবে।

রাসূল (সাঃ) -এর রওজা জিয়ারত করার জন্য যে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে হয় তার নাম ‘বাব উস সালাম’ এবং জিয়ারত শেষে ‘বাব উল বাকী’ নামে আরেকটি দরজা দিয়ে বের হতে হয়। মহানবী (সাঃ) -এর রওজা থেকে মসজিদে নববীর মিম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত এই জায়গাটিকে বলা হয় ‘রিয়াদুল জান্নাহ্’, যার অর্থ জান্নাতের বাগান। এই জায়গার মধ্যে নামাজ আদায় করা জান্নাতের বাগানে নামাজ আদায় করার শামিল। রিয়াদুল জান্নাহ্ থেকে কোন দোয়া করা হলে, তা অবশ্যই আল্লাহ্’র দরবারে গৃহীত হয়। হজ্জ্বের সময় আগত প্রত্যেক মুসল্লী এখানে নামাজ আদায় করতে চায়, কিন্তু সব সময় এখানে জায়গা পাওয়া যায় না।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) -এর জীবদ্দশায় মদিনার যতটুকু অংশ জুড়ে মানববসতি ছিল, তার অনেকাংশই এখন মসজিদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এর প্রমাণ হিসেবে বলা যায়, অতীতে মদিনা জনবসতির একেবারে শেষ প্রান্তে ছিল ‘জান্নাতুল বাকী’ কবরস্থান। আর বর্তমানে ‘জান্নাতুল বাকী’ মসজিদে নববীর চত্বরের পাশেই অবস্থিত। জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে মহানবী (সাঃ) -এর স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজনসহ বেশ কয়েক হাজার সাহাবীর কবর রয়েছে। বর্তমান সময়ে মসজিদে নববী এর প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ের আয়তনের চেয়ে একশত গুণেরও বেশি বড়। মসজিদে নববীর ধারণক্ষমতা প্রায় ছয় লক্ষ। তবে হজ্বের মৌসুমে প্রায় দশ লক্ষেরও বেশী লোক এই মসজিদ প্রাঙ্গণে জমায়েত হতে পারে।

অতীতে এই মসজিদ ছিল ইসলামী জ্ঞান চর্চার প্রধান কেন্দ্র। মসজিদে সব সময় একদল সাহাবী বসবাস করত। তাদেরকে বলা হতো ‘আসহাবে সুফফা’। তারা ইসলামের জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল। পরবর্তীতে তাদের কাছ থেকেই বহু সংখ্যক হাদিস সংগ্রহ করা হয়েছে।

মসজিদের প্রাঙ্গণে ছাতার মতো তাবু রয়েছে। যা প্রয়োজন অনুসারে ছাতার মতো খুলে ও বন্ধ করে রাখা যায়। একটি জার্মান স্থাপত্য প্রতিষ্ঠান এই ছাতাগুলো নির্মাণ করেছে।

১৯০৯ সালের সমগ্র আরব উপদ্বীপের মধ্যে মসজিদে নববীতেই সর্বপ্রথম বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানো হয়। বলা হয়ে থাকে তৎকালীন অটোমান সম্রাট তার প্রাসাদে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার আগে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন।

Categories
Interesting Lifestyle Worldwide

সোমালিয় জলদস্যুতা : নৌকায় চড়ে জাহাজ ছিনতাই!

সোমালিয়ান জলদস্যুদের উত্থান হয়েছিল এক অসাধারণ প্রতিরোধ যুদ্ধের মধ্য দিয়ে। পরবর্তীতে জলদস্যুতা পরিণত হয় সোমালিয়ার অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে। আফ্রিকার সমগ্র পূর্ব উপকূল থেকে শুরু করে, আরব সাগর ও ভারত মহাসাগরের বিস্তীর্ণ জলরাশি জুড়ে গড়ে উঠেছিল তাদের দুর্দমনীয় আধিপত্য। পণ্যবাহী জাহাজের আতঙ্ক সোমালিয়ার কুখ্যাত জলদস্যুরা বিশাল বিশাল জাহাজ ছিনতাই করেছে সামান্য স্পিডবোট ব্যবহার করে।

আমাদের এই প্রতিবেদনে জানাবো সোমালিয়ার জলদস্যুরা ছোট ছোট স্পিডবোট ব্যবহার করে সমুদ্রের মাঝখানে কিভাবে বিশাল আকারের জাহাজ ছিনতাই করে।

এশিয়ার দেশগুলো ইউরোপের সাথে বাণিজ্য করতে চাইলে, ভারত ও আরব সাগর দিয়ে সুয়েজ খাল অতিক্রম করেই কেবল ভূমধ্যসাগরে পৌঁছানো সম্ভব। আর এই পথে চলা জাহাজগুলোকে সোমালিয়ার উপকূল অতিক্রম করতেই হয়। আর তাই জলদস্যুদের এড়িয়ে বাণিজ্য জাহাজগুলি পরিচালনা করা একপ্রকার অসম্ভব হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আরব সাগর ও লোহিত সাগর ব্যবহার করে, তাদের জন্য এই রুটটি হয়ে ওঠে পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদসংকুল জলপথ।

১৯৯১ সালের পর থেকে এই এলাকায় জলদস্যুতার শুরু হলেও ২০০৫ সাল থেকে মূলত সোমালিয় জলদস্যুরা বৃহৎ পরিসরে সংঘবদ্ধ আক্রমণ শুরু করে। এসময় থেকেই তারা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের ব্যবহার শুরু করে। মোবাইল ফোন, স্যাটেলাইট ফোন, জিপিএস, সোলার সিস্টেম, আধুনিক স্পিডবোট, অ্যাসল্ট রাইফেল, শটগান, গ্রেনেড লঞ্চার সহ অত্যাধুনিক সরঞ্জাম নিয়ে তারা আক্রমণ চালায়। গভীর সমুদ্রে দস্যুবৃত্তির ক্ষেত্রে তারা একটি মাদারশীপ থেকে অভিযান পরিচালনা করে। আর বড় জাহাজ গুলোর কাছে পৌঁছাতে তারা দ্রুতগতির ছোট ছোট মোটর চালিত নৌকা ব্যবহার করে। আক্রমণকারী এসব স্পিডবোটে ভারি অস্ত্র ও স্যাটেলাইট ইকুইপমেন্টের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি থাকে নৌকার ইঞ্জিনের জ্বালানি। কারণ কখনো কখনো টানা ২-৩ দিন পর্যন্ত তাদের টার্গেটের পেছনে ধাওয়া করতে হয়।

আক্রমণের সময় হিসেবে জলদস্যুরা সাধারণত রাত বা ভোরের দিকটা বেছে নেয়। আক্রমণকারী স্পীডবোট অতিরিক্ত ছোট হওয়ায় বড় জাহাজগুলোর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না। জলদস্যুরা সাধারণত জাহাজের পেছন দিক থেকে আক্রমণ করে। দস্যুদের নৌযানগুলো জাহাজের দিকে আসতে দেখলে নাবিকরা গরম পানি স্প্রে করে আক্রমণ ঠেকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের ঠেকানো খুব সহজ নয়। এক মাথায় হুক লাগানো লম্বা মই বা দড়ি বেয়ে তারা দ্রুত জাহাজে উঠে যায়। অনেক সময় তারা লম্বা বাঁশ ব্যবহার করে জাহাজের পেছন দিকে লাগানো হুঁকের সাথে আটকে দেয়, আর তা বেয়ে জাহাজে উঠে যায়। জলদস্যুরা জাহাজে উঠে সকলকে জিম্মি করে ফেলে। এই কাজগুলো তারা এত দ্রুত করে, যে জাহাজের ক্রু-রা কিছু বুঝে ওঠা বা এলার্ম বাজানোর আগেই তারা সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। যদিও অতিরিক্ত উচ্চতার কারনে বিশালাকার কার্গো বা ট্যাংকারবাহী নৌ-যান গুলোতে আরোহন করা কঠিন, তবে পুরোপুরি ভর্তি অবস্থায় এগুলো অনেকটা ধীর গতিতে চলে। এই কারনে জাহাজগুলো আক্রমন করা দস্যুদের জন্যে সহজ হয়ে যায়।

জলদস্যুরা মুক্তিপণ আদায় করে ইউএস ডলার বিলের মাধ্যমে। মুক্তিপণের অর্থ ডেলিভার করার জন্য তা বস্তায় ভরে হেলিকপ্টার থেকে ফেলে দেয়া হয়। যদিও মুক্তিপণ আদায়ের লক্ষ্যে জলদস্যুরা বন্দীদের জীবিত রাখে, তবুও তাদের কাছে বন্দী অবস্থায় এ পর্যন্ত ৬০ জনের বেশি নাবিক মারা গিয়েছে।

Categories
Interesting Lifestyle Religion

বাংলাদেশ সীমান্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবার!

আমাদের এই প্রতিবেদনে আপনাদের জানাবো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবার সম্পর্কে। যে পরিবারের সদস্যদের প্রতি বেলার খাবার রান্না করতে লাগে কমপক্ষে ৫০ কেজি চাল। শুধু এই পরিবারের সদস্যদের জন্যই রয়েছে একটি উপাসনালয়, লেখাপড়ার জন্য একটি স্কুল এবং তাদের খেলার জন্য একাধিক ফুটবল দল, ও একটি স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ ও মায়ানমারের সীমান্তবর্তী ভারতের মিজোরাম রাজ্যের পাহাড়ে তাদের বসবাস।

ভারতের মিজোরাম রাজ্যের রাজধানী আইজল থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শেরছিব জেলার বাকতাওয়াং গ্রামে বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পরিবারটি বসবাস করে। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পরিবার সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমেই জানতে হবে এই পরিবারের কর্তা সম্পর্কে। সবচেয়ে বড় এই পরিবারটির কর্তার নাম ‘জিয়োনা চানা’।

১৯৬২ সালে ১৭ বছর বয়সে সে তার প্রথম বিবাহ করে। এরপর প্রায় এক বছরের মধ্যে সে আরও দশটি বিয়ে করে। বর্তমানে তার ৪০ জন স্ত্রীর গর্ভজাত ৯৪ জন সন্তান এবং ৩৩ জন নাতি-নাতনি রয়েছে। এদের মধ্যে যে জিয়োনার দুইজন স্ত্রী মারা গেছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই পরিবারটির বর্তমান সদস্য সংখ্যা ১৯৪ জন, এবং এই সংখ্যা নিয়মিত বেড়েই চলেছে। জিয়োনার সবচেয়ে বড় স্ত্রী’র বয়স ৭২ এবং সবচেয়ে ছোট স্ত্রী’র বয়স ৩৮ বছর। এবং তার সবচেয়ে বড় সন্তানের বয়স ৫২ সবচেয়ে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র ৮ বছর।

বাকতাওয়াং গ্রামের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি জিয়োনা। সে এই গ্রামের যেন মুকুটবিহীন রাজা। জিয়োনা নিজেকে সিংহের সাথে তুলনা করে। তার প্রতীক হিসেবে বাকতাওয়াং গ্রামের পাহাড়ের উপর বিরাট সিংহের মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। এলাকার সবচেয়ে ধনী ও প্রভাবশালী হবার কারণে, স্থানীয় লোকজন তার সাথে কথা বলতেও ভয় পায়।

জিয়োনা’র বাবার ১৯৪২ সালে খ্রিস্টান ধর্মের এক বিশেষ শাখার প্রচলন করেন। ধর্মের নামে শুরু করা এই আচারের মূল উদ্দেশ্য ছিলো বহুগামিতার চর্চা। ভারতে আইনত বহুবিবাহ নিষেধ। কিন্তু কারো ব্যক্তিগত ধর্ম যদি তাকে বহুবিবাহের অনুমতি দেয়, সে ক্ষেত্রে ব্যক্তি একাধিক বিয়ে করতে পারবে। আর জিয়োনার ক্ষেত্রে বিষয়টি খুবই সহজ। কারণ জিয়োনা নিজেই তার ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু। এই পরিবারটি এক ধরনের ‘রিলিজিয়াস কাল্ট’ বা বিপথগামী ধর্মীয় গোষ্ঠী। তাদের রয়েছে নিজস্ব চার্চ বা উপাসনালয়। এদের মধ্যে অনেকেই জিয়োনাকেই ঈশ্বর মনে করেন। জিয়োনা এতে পরোক্ষ প্রশ্রয়ও দেয়। তার এই বিশেষ উপাসনালয়ে পরিবারের সদস্যরা গান বাজিয়ে আধ্যাত্মিক নৃত্য করে। জিয়োনা তার চার্চে যেসব বক্তব্য দেয় তার মূল আলোচ্য বিষয় হলো, “এই পরিবারের লোকেরা সত্যিই খুব ভাগ্যবান ;বিশেষ করে যে জিয়োনার স্ত্রী’রা। কারণ তারা জিয়োনাকে বিয়ে করে ধন্য হতে পেরেছে।”

বাকতাওয়াং গ্রামের সবচেয়ে বড় বাড়িতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পরিবারটি বাস করে। জিয়োনার চারতলার এই প্রাসাদে শোবার ঘর রয়েছে ১০০ টি। জিয়োনার প্রথম এবং চতুর্থ স্ত্রী পরিবারের সবার দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছে। আর অন্যান্য স্ত্রী’রা পরিবারের খাবার তৈরি করে। এছাড়া জিয়োনার মেয়েরা বাড়ি-ঘর পরিষ্কার ও কাপড় কাচার দায়িত্ব পালন করে।

এই পরিবারের খাবার রান্না করা হয় রীতিমতো বাণিজ্যিক উৎপাদনের আকারে। পরিবারটির প্রতি বেলার খাবার তৈরি করতে লাগে ৫০ কেজি চাল, ৬০ কেজি আলু ও ৭০ কেজি মাংস। এমনকি পরিবারের সবার জন্য শুধু ডিম ভাজি করাটাও এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। সেক্ষেত্রেও ডিম লাগে ৪৮০ টি।

জিয়োনার এই বিশাল পরিবার লালন-পালনের আরেকটি উদ্দেশ্যও রয়েছে। এতো বিশাল পরিবার হওয়ার ফলে, সে পরিবারের মধ্যেই পেয়ে যাচ্ছে বিপুল সংখ্যক কর্মী। পরিবারের পুরুষ সদস্যরা জুম চাষ, গবাদি পশু পালন, কাঠের আসবাবপত্র ও অ্যালুমিনিয়ামের বাসনপত্র নির্মাণের সাথে জড়িত রয়েছে। এছাড়া জিয়োনা তার পরিবারের লোকদের দিয়েই স্থানীয় একাধিক রাস্তা ও অন্যান্য জনসেবামূলক অবকাঠামো তৈরি করেছে।

বিপুল সংখ্যক সদস্য থাকার কারনে এই জিয়োনার ছেলে ও নাতিরা মিলেই গড়ে তুলেছে একাধিক ফুটবল দল। জিয়োনার প্রাসাদের নিচে বানানো বিশেষ স্টেডিয়ামে তারা নিজেদের মধ্যে নিয়মিত ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। পারিবারিক বিনোদনের জন্য মাঝেমাঝে বাড়ির ছাদে কনসার্টের আয়োজন করা হয়।

শুধুমাত্র এই পরিবারের সদস্যদের লেখা-পড়ার জন্যই একটি স্কুল রয়েছে। স্কুলটিতে জিয়োনার অন্যান্য ভাইয়ের সন্তানেরাও লেখাপড়া করে। তবে যারাই পড়ুক, এই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, কর্মচারী সবাই কোনো না কোনোভাবে পরিবারেরই সদস্য।

Categories
Bangladesh

কুড়িয়ে পাওয়া ৬১ লাখ টাকা ফিরিয়ে দিলো অটোচালক

এক অটোচালকের সততায় নিজের ব্যবসায়ের ৬১ লাখ টাকা ফিরে পেলেন চাঁদপুরের বিকাশ এজেন্ট আলমগীর হোসেন। রোববার রাতে চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম উদ্দিনের উপস্থিতিতে টাকাগুলো তুলে দেয় সজিব সর্দার (১৫) নামে ওই অটোচালক।

সজিব চাঁদপুর শহরের পুরানবাজার মধ্যশ্রীরামদী এলাকার দিনমজুর দেলোয়ার সরদারের ছেলে। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান।

অটোচালক সজিব জানায়, তিনজন ব্যক্তি তার অটোতে উঠেছিল। নামার সময় টাকার ব্যাগটি ভুলে ফেলে রেখে যায়। সে ব্যাগটি দেখার পর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে। কিন্তু তারা না আসায় অটো নিয়ে গ্যারেজে ফিরে আসে সজিব। পরে সে তার পরিবারের লোকজন নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের অফিস সহকারী বাদল বেপারীকে বিষয়টি জানায়। তিনি মডেল থানার ওসিকে ফোন করে বিষয়টি জানান।

সজিবের ভাষ্যমতে, ব্যাগের কোনো টাকা আমি খোয়া যেতে দেইনি। এ কারণে আমাকে ৫ হাজার টাকা পুরষ্কার দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ছেলেটার সততার কারণে তাকে পুরষ্কৃত করা হয়েছে।

জানা গেছে, আজ সোমবার সকালে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মো. মাজেদুর রহমান খান সজিবকে খাদ্য সহায়তা দিয়েছেন।

বিকাশ এজেন্ট মালিক আলমগীর হোসেন জুয়েল বলেন, ওই কিশোরের সততায় আমি মুগ্ধ। তাকে তার চাহিদা অনুযায়ী একটি অটো কিনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছি। সহসাই আমি তার হাতে ওই উপহার তুলে দেব।

ওসি মো. নাসিম উদ্দিন বলেন, তার সততা দেখে আমরা বিস্মিত হয়েছি। সে ইচ্ছে করলে টাকাগুলো নিয়ে অন্যত্র চলে যেতে পারত। আর আমরা সবাই কিছু সময়ের জন্য হয়রানিতে পড়তাম।

Categories
Bangladesh

অবশেষে খয়রাতি শব্দের জন্য ক্ষমা চাইলো আনন্দবাজার

আনন্দবাজার ভ্রম সংশোধন শিরোনামে লিখেছে ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং’- শীর্ষক খবরে খয়রাতি শব্দের ব্যবহারে অনেক পাঠক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা দুঃখিত ও নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থী।’ এই শব্দের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইলেও ‘নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা’ এই বিষয়টির ব্যখ্যা দেয়নি। অর্থাৎ ঢাকার যে দুজন প্রতিনিধি রয়েছেন তাঁরা যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে কথা বলেনি কলকাতার এই পত্রিকাটি।

গত ২০ জুন আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘লাদাখের পরে ঢাকাকে পাশে টানছে বেজিং’- শীর্ষক এক প্রতিবেদনের শুরুতেই ‘বাণিজ্যিক লগ্নি আর খয়রাতির সাহায্য ছড়িয়ে বাংলাদেশকে পাশে পাওয়ার চেষ্টা চীনের নতুন নয়’ বলে লেখা হয়। এ নিয়ে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আনন্দবাজার পত্রিকার নানা সমালোচনা করছেন। এ শব্দ ব্যবহারের জন্য ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ মানুষ।

২১ জুন আনন্দবাজার পত্রিকার বাংলাদেশ প্রতিনিধি কুদ্দুস আফ্রাদ এই রিপোর্টের প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, আমি স্পষ্ট করে জানাতে চাই, এ রিপোর্ট আমার লেখা নয়। আমি নিজে এ রিপোর্টের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। রিপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের প্রতিক্রিয়ার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।

পরে ডিজিটাল ভার্সনের অঞ্জন রায়ও একই কথা জানান। কিন্তু আনন্দবাজার সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়নি অর্থাৎ এটি ডেস্ক রিপোর্ট কি না তা স্পষ্ট করেনি।

Categories
Featured Technology

ফ্রিল্যান্সিং : ঘরে বসে আয় করার সহজ ব্যাবস্থা!

ইন্টারনেটের এই যুগে তরুণদের কাছে এক জনপ্রিয় পেশা ‘ফ্রিল্যান্সিং’। ফ্রিল্যান্সিং হলো এক ধরনের স্বাধীন পেশা। যারা চাকরির ধরা-বাঁধা নিয়ম পছন্দ করেন না, তাদের জন্য উপার্জনের এক চমৎকার মাধ্যম ফ্রিল্যান্সিং। বর্তমানে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয় ফ্রিল্যান্সিং খাত থেকে।

আমাদের এই প্রতিবেদনে জানাবো স্বাধীন পেশা ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কে।

ফ্রিল্যান্সিং হলো এক ধরনের চুক্তিভিত্তিক কাজ। তবে কোন একক কাজকে ফ্রিল্যান্সিং বলা হয় না। বলতে গেলে এটি পেশা পরিচালনার এক বিশেষ ধরন। কোন প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করাকে বলা হয় ফ্রিল্যান্সিং। আর যারা এই ধরনের কাজ করেন তারা হল ‘ফ্রিল্যান্সার’, বাংলায় যাকে বলা যায় ‘স্বাধীন পেশাজীবী’।

ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে আরেকটি শব্দ, তা হল ‘আউটসোর্সিং’। কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তার নিয়মিত কর্মীদের বাইরে চুক্তিভিত্তিক কোন কাজ করালে তাকে বলা হয় আউটসোর্সিং। যেমন ধরুন আপনি আপনার নিজের অথবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ওয়েবসাইট খুলতে চান। কিন্তু আপনার প্রতিষ্ঠানে কোন ওয়েবডেভেলপার নেই। আবার এই একটি কাদের জন্য একজন কর্মী নিয়োগ করা অনেক ব্যয় সাপেক্ষ। তখন আপনার জন্য সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী উপায় হবে, একজন ফ্রিল্যান্সারকে কাজ দেওয়া। এক্ষেত্রে চুক্তিভিত্তিক যে কাজটি করিয়ে নেওয়া হবে, সেটিই হবে আউটসোর্সিং। বিভিন্ন ধরনের আউটসোর্সিং এর চাহিদা অনুযায়ী কাজ করাই হলো ফ্রিল্যান্সিং।

সাধারণত চাকরিজীবীদের মত ফ্রিল্যান্সারদের কোন নির্দিষ্ট বেতন নেই। কাজের ধরন ও চুক্তির উপর নির্ভর করে একজন ফ্রিল্যান্সার কত টাকা আয় করবে। জনপ্রিয় কয়েকটি ফ্রিল্যান্সিং কাজের ধরন হল- ওয়েব ডেভলপমেন্ট, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন, ডাটা এন্ট্রি, ডিজিটাল মার্কেটিং, ভিডিও এডিটিং, এ্যপ ডেভলপমেন্ট, আর্টিকেল রাইটিং ইত্যাদি। এসব কাজের বাইরেও চাহিদা সম্পন্ন যে কোন কাজের দক্ষতা অর্জন করে, আপনিও হয়ে যেতে পারেন ফ্রিল্যান্সার। কিন্তু কোথায় গেলে আপনি এ সমস্ত কাজ পাবেন, বা আপনি আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ কর্মী কোথায় খুঁজবেন? এর উত্তর হলো ‘মার্কেটপ্লেস’।

ফ্রিল্যান্সার ও তাদের ক্লায়েন্টদের মধ্যে কাজ আদান-প্রদানের জায়গাকে বলা হয় মার্কেটপ্লেস। মার্কেটপ্লেস হলো ‘কাজের বাজার’। যেখানে আপনি আপনার কোন কাজ অন্যকে দিয়ে করিয়ে নিতে পারবেন। আবার কর্মসন্ধানী যেকেউ সেখান থেকে আপনার কাজটি করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হবে। অর্থাৎ যে প্লাটফর্মে কাজ-দাতা এবং কাজ-গ্রহীতা, উভয়ের সকল ধরনের চুক্তি ও লেনদেন করা হয় তাকে বলে মার্কেটপ্লেস।

ইন্টারনেটে বহু মার্কেটপ্লেস আছে। সকল মার্কেটপ্লেসের উদ্দেশ্য এক হলেও, তাদের কাজের ধরনে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসগুলোতে বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সাররা, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং-এ যারা নতুন তাদের বেশ কিছু সমস্যা হয়ে থাকে। যেমন একেকজন ফ্রিল্যান্সারের কাজের দক্ষতার উপর ভিত্তি করে তার রেটিং পয়েন্ট থাকে। এই রেটিং পয়েন্ট দেয়া হয় একজন ফ্রিল্যান্সারের কাজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে। নতুন ফ্রিল্যান্সারদের অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তাদের কাজ পেতে বেশ অসুবিধা হয়। আরেকটি বড় সুবিধা হলো কাজের পারিশ্রমিক পাবার বিষয়টি। বাংলাদেশে সকল ধরনের আন্তর্জাতিক পেমেন্ট মেথড না থাকায়, অনেকেই বিদেশী ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস গুলোতে সহজে কাজ করতে পারে না, অথবা কাজ শেষে টাকা তুলতে নানা রকম সমস্যায় পড়তে হয়।

বর্তমানে কোভিড-১৯ মহামারির কারনে বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো আউটসোর্সিং এর মাধ্যে ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে কাজ করানোর দিকে ঝুঁকছে। বিশ্লেষকদের মতে, করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারনে প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়ে ভার্চুয়াল ওয়ার্কপ্লেসে কাজ করতে শুরু করে। এবং একসময় বাড়িতে বসে কাজ করার বিষয়ে তারা অভ্যস্ত হয়ে যাওয়াতে ফ্রিল্যান্সিং খাতের চাহিদা বাড়ছে। তাছাড়া কোভিড-১৯ মহামারির পরেও খরচ বাঁচাতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের স্থায়ী কর্মীদের সরিয়ে ফ্রিল্যান্সারদের দিয়ে কাজ করাতে বেশি আগ্রহী হবে।

ইকোনোমিক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মে মাসে ফ্রিল্যান্স কাজের জন্যে ইন্টারনেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ বেড়েছে ৭৬ শতাংশ।